সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচড় ও শক্তিয়ারখলা সড়কের একটি কালভার্ট গেল বন্যায় ভেঙ্গে যাওয়ার দীর্ঘ ৫ মাসেও নির্মাণ না হওয়ায় পথচারী ও এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। মূল সড়কের এই কালভার্টটি দ্রুত নির্মাণ না হওয়ায় উত্তর বাদাঘাট ও দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের অর্ধ লক্ষ মানুষ এখন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। প্রয়োজনের তাগিদে এই সড়কের ভাঙ্গা খালের অংশের উপর কাঠ ও বাঁশের কুটির উপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পথচারী, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করছে।
জানা যায়, গত ১৪ মে দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নে মিয়ারচড় ও শক্তিয়ারখলা সড়কের কবর স্থান সংলগ্ন বাঘাপুড়া নামক এলাকায় কালভার্টটি স্বারণকালের বন্যায় ভেঙ্গে যায়। এরপর জরুরি ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ ও যাদুকাটা নদীর ইজারাদারদের সহযোগিতায় দু’টি কাঠ ও বাঁশের কুটি দিয়ে কোনরকম ভাঙ্গা স্থানটি পারাপার হওয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়। অথচ ৫ মাসেও এলজিইডির পক্ষ থেকে কালভার্টটি পুনরায় নির্মাণের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙ্গা খালের উপর কাট ও বাঁশের কুঠির উপর দিয়েই মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন। যার ফলে এখানে প্রায় সময়ই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শেষ সীমানায় ১০ গ্রামের মানুষ জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য মিয়ারচড় ও শক্তিয়ারখলা সড়কের কবর স্থান সংলগ্ন বাঘাপুড়া এলাকায় এলজিইডির অধীনে এই কালভার্টটি নির্মাণ হয়েছিল। এর পর থেকে সড়কের এই কালভার্টের উপর দিয়েই প্রতিদিন শতাধিক মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, সিএনজি ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করতো। এছাড়াও তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভপুর উপজেলার প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষ জেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়ক দিয়েই। কালভার্টটি দ্রুত নির্মাণ না হওয়ায় বড় পন্যবাহী যানবাহন এখন চলাচল করতে পারছেনা। বিকল্প কোন সড়ক না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়েই কিছু যানবাহন ও যাত্রীবাহী মোটরসাইকেল চলাচল করছে।
স্থানীয় ডা. আলী নুর আক্ষেপ করে বলেন, ‘দেখার যেন কেউ নেই’ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করছে এই সড়ক দিয়েই। সড়কের একটি ভাঙ্গা খালের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহনে গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এখানে কোন প্রাণনহানীর পূর্বেই কর্তৃপক্ষের কাছে এই কালভার্টটি দ্রুত নির্মাণের দাবী জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা এলজিইডি কর্মকর্তা মো. মকলেছুর রহমান বলেন, এই কালভার্টের বিষয়ে আমরা প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। অনুমোদন ফেলেই এই কালভার্টের কাজ দ্রুত শুরু হবে। এছাড়া তাৎক্ষনিক কিছু করার নেই।
দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. ছবাব মিয়া জানান, মিয়ারচড় ও শক্তিয়ারখলা সড়কের উপর কালভার্টটি গেল বন্যায় ভেঙ্গে গেছে। আপাতত নদীর ইজারাদারদের সহযোগিতায় কালভার্টের উপর কাঠ ও বাঁশ দিয়ে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির মাধ্যমে এই সড়কের ভাঙ্গা স্থানে বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। হেমন্ত সিজনেই এখানে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/রাজ্জাক/মুন্না




