সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে জালিয়াতির অভিযোগে বয়স্ক ভাতার তালিকাভুক্ত ৪শ’১৩ সুবিধাভোগীর ভাতা বাতিল করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রে নাম-ঠিকানা সঠিক থাকলেও বয়সে গরমিল পাওয়া গেছে।সম্প্রতি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নিজস্ব সফটওয়ারের মাধ্যমে ভাতাভোগীদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে অনলাইনে সংরক্ষণ করতে গিয়ে এসব প্রতারণা ধরা পড়ে।
উপজেলা সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বয়স্কভাতা পেতে নারীর বয়স ন্যুনতম ৬২ ও পুরুষের ৬৫ বছর হওয়া বাধ্যতামূলক। তারা। ওই অফিস থেকে ভাতাভোগীদের নামে বই ইস্যু করার পর তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভাতার টাকা পান। এসব ভাতাভোগীর তালিকা ইউনিয়ন কমিটির মাধ্যমে তৈরি করে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে জমা হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন দেখে সঠিক বয়স নির্ধারণ করে ভাতার আওতায় আনেন সমাজসেবা কার্যালয়। সেইসাথে বয়স জালিয়াতি করে অন্তর্ভূক্ত হয়েছেন অনেকেই।সম্প্রতি তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকাভুক্তির কাজ চলমান রয়েছে।
এ উপজেলায় মোট ৬হাজার ৩শ’ ৪৪জন বয়স্ক ভাতাভোগীর মধ্যে জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে বাংলাবাজারে ৪৫জন, নরসিংপুরে ১শ’৬জন, দোয়ারাবাজার সদরে ৪৮জন, মান্নারগাঁওয়ে ২৩জন, পান্ডারগাঁওয়ে ৬০জন, দোহালিয়ায় ৩৩জন, লক্ষীপুরে ৩৬জন, বোগলাবাজারে ২৯জন এবং সুরমা ইউনিয়নের ৩৩জনের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তালিকাভূক্ত হতে বাদ পড়া অনেকই জানান, নিজ এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত জনপ্রতিনিধি ও সমাজসেবা অফিসের অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগসাজশে পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ ঘষামাজা অথবা ভুয়া জন্মসনদ তৈরি করে বয়স বাড়িয়ে তারা ভাতাভুক্ত হয়েছেন। তারা আরো জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উতকোচ নিয়ে বয়স বাড়িয়ে তাদের ভাতার অন্তর্ভূক্ত করেছিলেন। সেজন্যই অনলাইনে তাদের ডাটা এন্ট্রি না হওয়ায় এখন তারা আর ভাতা পাচ্ছেন না।
উপজেলা সমাজসেবা অফিসার কামরুল ইসলাম জানান, এনআইডি চালু হওয়ার পূর্ব থেকেই ভাতাভোগীদের অনিয়ম চলে আসছিল। বয়স জালিয়াতি করে অনেকেই বয়স্ক ভাতার আওতায় এসেছেন। যারা বয়স চুরি করে ভাতাভোগী হয়েছেন তাদের বাদ দিয়ে নতুনদের তালিকাভুক্তি করার কাজ চলমান রয়েছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / তাজুল / ডি.আর




