সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের প্রায় ৪ শতাধিক পরিবার সাবলম্ভী হয়েছেন। তাদের অনেকেরই সবজি চাষ করে লাখপতি হয়েছেন। কেউ কেউ সবজি চাষের টাকায় নতুন বসতঘরও তৈরি করেছেন। সবজী চাষে সাবলম্ভী হয়ে এসব এলাকার লোকজনের মধ্যে আনন্দের হাওয়া বইছে।
নিজপাট ইউনিয়নের হর্নি, বাইরাখেল, রুপচেং, নয়াগ্রাম, মাঝেরবিল, কালিঞ্জি, দিগারাইল, লক্ষীপ্রসাদ হাওর, লক্ষীপ্রসাদ, পাখিবিল ও কামরাঙ্গী গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে আলাপকালে এ প্রতিবেদককে কৃষকরা জানান- ‘তারা আগাম সবজী চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। বিশেষ করে এক খরচে শিম চাষ করে বাড়তি আয় করতে পেরেছেন কৃষকরা। প্রতি বিঘা জমিতে খরচ বাদে তাদের আয় ১ থেকে ২ লক্ষ টাকা।’

হর্নি মাঝের বিল গ্রামের কৃষক জয়নুল আবেদীন বলেন- ‘নিজ মালিকানাধীন তিন বিঘা জমিতে তিনি বরবটি চাষ করেছেন। বরবটি চাষ করে চলতি বছরে যাবতীয় খরচ ও পারিবারিক খরচ শেষে দেড় লক্ষ টাকা আয় করেছি। আরও দশ-পনের হাজার টাকা পাবো।’
তিনি আরও জানান- ‘একই জমিতে শিম রোপণ করেছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে শিম হতে আরও ২ লক্ষাধিক টাকা আয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে শিম চাষে কোন খরচ লাগছে না। এক খরচে দুটি ফলন পাচ্ছেন।’
আক্ষেপ করে জয়নাল আবেদীন বলেন- ‘দীর্ঘ দিন ধরে কৃষি কাজ করি। তবে সরকারি কোন সুযোগ সুবিধা পাইনি।’

নয়া গ্রামের কৃষক আমিনুর রহমান বলেন- ‘তিনি প্রায় ৪ বিঘা জমিতে বরবটি, ঝিঙ্গা, করলা, লাউ চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বাজারে দাম ভালো থাকার পাশাপাশি ফসলের মাঠ হতে সবজি বিক্রয় করতে পারায় বাড়তি ঝামেলায় পড়তে হচ্ছেনা।’
রুপচেং গ্রামের বাসিন্দা হেলাল আহমদ বলেন- ‘প্রায় দেড় বিঘা জমিতে তিনি বরবটি চাষ করেছেন। ফলন ভাল হয়েছে, মোটামুটি অন্যান্য বৎসরের তুলনায় বাজার মূল্য ভাল থাকায় লাভবান হয়েছি। আশাকরি আগামী মাসে জমি হতে শিম তুলবো।’
কামরাঙ্গী গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শামীম আহমদ বলেন- ‘বিগত ৫ বছর হতে নিজপাট ইউনিয়নের ১১টি গ্রামের বাসিন্দারা পাথর কোয়ারি কেন্দ্রিক না হওয়ায় সবজি চাষ করে ব্যাপক স্বাবলম্বী হয়েছেন। পাশাপাশি ১১ গ্রামের মানুষের একটি ঘর আধকাঁচা নেই। সবার বাড়িঘর আল্লাহর অশেষ রহমতে সবজি চাষ করে পাকা বাড়ীতে পরিণত হয়েছে। এই মৌসুম শুরু হলে ১১টি গ্রামের কৃষক পরিবারগুলোতে আনন্দের বন্যা বয়ে চলে।’
তবে তিনি বলেন- ‘সরকার কৃষি ক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য নানামুখী ভর্তুকি দিলেও প্রকৃত পক্ষে কৃষকরা ভর্তুকি পাচ্ছে না। তিনি সুষ্টু তদন্তের মাধ্যমে এসব কৃষকদের মধ্যে তদন্ত পূর্বক সহায়তা প্রদান করলে দেশে সবজি চাহিদা পূরণে আরও উৎসাহ বৃদ্ধি পাবে।’
জৈন্তাপুর উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সুহেব আহমদ বলেন- জৈন্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন ওয়ার্ডে উপজেলা কৃষি অফিস সহায়তা, কৃষক প্রশিক্ষণ, ভর্তুকির সার-বীজ-কীটনাশক, বিভিন্ন ফলজ বাগান তৈরি করে দিচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কৃষক স্বাবলম্বী হয়েছেন। ক্রমান্বয়ে উপজেলার সকল কৃষকরা সরকারি সুবিধা ভোগ করবেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, আমি জৈন্তাপুর উপজেলা নতুন। তবে সামগ্রিক দিক খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারছি উপজেলা ব্যাপক হারে কৃষকরা নানাবিধ চাষাবাদ করে কৃষিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষদের প্রশিক্ষণ, সার, বীজ, কীটনাশক সহ বিভিন্ন সরকারী সহায়তা কৃষকদের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হচ্ছে। অচিরেই কৃষির আওতায় আর কৃষকরা বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা পাবেন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাব্বির/মুন্না/ইআ-০১




