বাংলাদেশের প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার অরাজনৈতিক সংগঠন জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ (জেপিকেপি) এর কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির আয়োজনে পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালালদের অপসারণ এবং পাসপোর্ট অফিসের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পাসপোর্ট তৈরিতে সহজীকরণ অবস্থা চালু করার দাবিতে আগামী ২৬ নভেম্বর শনিবার দুপুর ২ ঘটিকায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। এ জনসভা সফলের লক্ষে বৃহস্পতিবার (৩ নভেম্বর) রাত ৮টায় জেপিকেপি’র কেন্দ্রীয় কার্যালয় (৬৪/এ বিহঙ্গ, কাজিটুলা, সিলেট) প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 


জালালাবাদ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি মাওলানা মুফতি মো. আব্দুর রহমান চৌধুরী’র সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শ্রেষ্ঠ যুব সংগঠক পদকপ্রাপ্ত মোহাম্মদ এহছানুল হক তাহেরের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন- জেপিকেপি’র উপদেষ্টা মো. ইদ্রিস আলী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-সভাপতি খায়রুল জাফর চৌধুরী, সহ-সভাপতি এম. এ মতিন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. বেলাল উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক এসএম শাব্বীর আমীন তাহমীদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক মো. মাহবুব ইকবাল মুন্না।

 


সভায় তারেক মোহাম্মদ রেদওয়ানকে প্রচার সম্পাদক ও মো. মাহবুব ইকবাল মুন্নাকে সহ-প্রচার সম্পাদক পদে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাথে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

 


এসময় বক্তারা বলেন- ‘প্রত্যেক জনসাধারণ বিভিন্ন কারণে পাসপোর্ট তৈরি করেন। পাসপোর্টের আবেদনের সাথে নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে দীর্ঘক্ষণ (কখনো সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত, তা হয়তো পরদিনও গড়াতে পারে) লাইন দাঁড়িয়ে ব্যক্তিগতভাবে আবেদনের ফরম জমা দিতে গিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালালদের টিকচিহ্ন না থাকার ফলে আবেদনকারীদের শত প্রতিকূলতার মধ্যে পড়তে হয়। আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাইকেই লাইনে দাঁড়িতে থাকতে হয়, পাসপোর্ট অফিসের বসার কোনো ব্যবস্থা নেই। পাসপোর্ট অফিসের প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতির আগ্রাসনে লিপ্ত। পাসপোর্ট অফিসের দাঁড়ানোর লাইনে দুর্নীতি, ফরম পূরণে দুর্নীতি, ফিঙ্গারে দুর্নীতি, পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনে দুর্নীতি, বলতে গেলে জনসাধারণের ব্যক্তিগতভাবে আবেদনের ফরমেও চুলচেরা বিশ্লেষণেই দুর্নীতি। পাসপোর্টের আবেদনের নির্দিষ্ট ফি’র বাহিরে প্রত্যেককে উল্লেখিত বিষয়ে দুর্নীতির কারণে দ্বিগুণ টাকা গুণতে হয়, আবার অনেক সময় তারচেয়ে অনেক বেশি টাকা বিড়ম্বনায় ফেলে আদায় করা হয়। যা একজন সাধারণ ব্যক্তির জন্য অনেক বহন করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালালদের দেওয়া টিক চিহ্নধারীদের পাসপোর্ট করতে গিয়ে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয় না। ভুক্তভোগী হয় সাধারণ জনগণ। আমরা এই প্রতিকূলতা থেকে বেড়িয়ে আসতে চাই। বক্তরা শীঘ্রই পাসপোর্ট অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করার জন্য জোর দাবি জানান। অন্যথায় ২৬ নভেম্বরের জনসভার মাধ্যমে পাসপোর্ট অফিসের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দালাল এবং তাদের দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর কর্মসূচী গ্রহণ করা হবে।’

 


এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ২৬ নভেম্বরের জনসভা সফলে লিফলেট বিতরণ, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে মতবিনিময়, সিলেট জেলার প্রতিটি উপজেলা সদরে মতবিনিময় সভাসহ সাংগঠনিকভাবে জনসভার বাস্তবায়নে গণসংযোগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

 

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/মুন্না-৯