সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সভাপতি মিশফাক আহমেদ মিশুর (৫৫) জানাযার নামাজ ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। 

শনিবার (৫ নভেম্বর) মাগরিবের নামাজের পর সিলেটের হজরত শাহজালাল (রাহ.) দরগাহ মসজিদে জানাজার অনুষ্ঠিত হয়। পরে দরগাহ কবরস্থানে দাফন করা হয়। 


হাজারো মানুষ অশ্রুসজল নয়নে সিলেটের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত মুখ  মিশফাক আহমেদ মিশুকে শেষ বিদায় জানান। 

এর আগে শনিবার ভোররাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মিশু। ভোরে হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায় তাঁর। দ্রুত উইমেন্স মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। মৃত্যুকালে মিশুর বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তিনি স্ত্রী, একমাত্র ছেলেসহ অসংখ্য স্বজন রেখে গেছেন।

সম্মিলিত নাট্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রজত কান্তি গুপ্ত বলেন- যার চিন্তা-চেতনা ও মননে ছিলো অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাঙ্গালি সংস্কৃতির জাগরণ। শৈশব থেকে সংস্কৃতির সাথে বড় হয়েছেন তিনি, সেই কারণে তাঁর প্রধান বিচরণ ছিলো সিলেটের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। কিন্তু শুধু নাটকের মধ্যে তিনি সীমাবদ্ধ থাকেননি, সিলেটের ক্রীড়াঙ্গন, রাজনীতি, ব্যবসায়ী সমাজে তাঁর বিচরণ ছিলো চোখে পড়ার মতো।

তারণ্যে তিনি বিজ্ঞাপনচিত্রে অভিনয় করে হয়ে যান নামকরা মডেল। সবকিছু ছাপিয়ে বিগত প্রায় দুই যুগ ধরে সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটের দায়িত্বশীল পদে থেকে কাজ করে গিয়েছেন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি টানা দ্বিতীয়বারের মতো নাট্য পরিষদের সভাপতি হিসেবে অত্যন্ত সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

তিনি জাসদ সিলেট মহানগরের সভাপতি ও সিলেট ক্লাব লি.-এর সিনিয়র সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।এছাড়াও তিনি বিগত সময়ে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি মুজিব জাহান রক্তকেন্দ্র, নজরুল একাডেমি, লিটল থিয়েটার সিলেটসহ বিভিন্ন সংগঠনের দায়িত্ব পালন করেন।

মিশুর মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবি সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী ও সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ মৃত্যু তাকে একনজর দেখতে ছোটে যান তার রায়নগরস্থ বাসায়। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম-৯