দীর্ঘদিন পর সুনামগঞ্জের ১০ উপজেলায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৩ টি ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। সম্মেলনকে ঘিরে হাওরের জনপদে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত রয়েছেন। শীর্ষ দুই পদ পেতে পদ প্রত্যাশীরা দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। অনেক জায়গায় কাউন্সিলরের তালিকা তৈরি নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলেও ‘সমঝোতায়’ নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে নেতৃত্ব বাছাইয়ের কথা বলছেন দায়িত্বশীলরা।
দলীয় সূত্রে জানা যায়- দীর্ঘদিন ধরে পুরনো নেতৃত্বে সুনামগঞ্জের ১৩টি ইউনিটে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। কয়েক বার সম্মেলনের উদ্যোগ নেয়া হলেও শুধুমাত্র জেলার মধ্যনগর ও বিশম্বরপুর উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে অন্যান্য ইউনিটে রাজনৈতিক ও দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কারণে সম্মেলন করা হয়নি। কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং আওয়ামী লীগের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে নতুন করে ওই ইউনিটগুলোর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্ব বাছাইয়ের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের জন্য দলের ভিত্তি পাকাপোক্ত করার লক্ষ্যে এসব ইউনিটের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে।
সম্মেলনের ঘোষিত তারিখ অনুসারে- আগামী সোমবার (১৪ নভেম্বর) দিরাই উপজেলা, পরদিন ১৫ নভেম্বর শান্তিগঞ্জে, ১৬ নভেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা ও পৌরসভা, ১৭ নভেম্বর তাহিরপুরে, জামালগঞ্জে ১৮ নভেম্বর, ছাতক উপজেলা ও পৌরসভায় ১৯ নভেম্বর, দোয়ারাবাজারে ২০ নভেম্বর, ধর্মপাশায় ২১ নভেম্বর, শাল্লায় ১ ডিসেম্বর এবং সুনামগঞ্জ সদর ও পৌরসভায় ২ ডিসেম্বর সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
এসব সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সদস্য ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী, সদস্য আজিজুস সামাদ ডন ও উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত থাকবেন।
সম্মেলনকে ঘিরে সুনামগঞ্জের রাজনীতিতে দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। শীর্ষ দুই পদ পেতে দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পদপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ বৃদ্ধি করে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন নেতা কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের মন জয় করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তাদের অনেকেই শীর্ষ নেতাদের মন জয়ের পাশাপাশি নিজ নিজ কর্মী সমর্থকদের দিয়ে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন সিলেটভিউ-কে বলেন- ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুনামগঞ্জের অবদান রয়েছে অনেক। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নিয়ে সারাদেশে জাগ্রত হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমরা সম্মেলন করছি। আমরা মনে করি সম্মেলনের তারিখ ঘোষণার পর প্রত্যেকটি উপজেলায় উৎসাহ উদ্দীপনা বিরাজ করছে। আমরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সম্মেলন সম্পন্ন করবো।’
তিনি আরও বলেন- আমরা চাবো ‘সমঝোতার’ মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণদের সমন্বয়ে প্রতিটি জায়গায় কমিটি ঘোষণা দিতে। আশাকরি তাদের নেতৃত্বে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুনামগঞ্জের ৫ টি আসনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারবো।’
তিনি এও বলেন- ‘সমঝোতায় পৌঁছানো না গেলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সামনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মুন্না-১১




