হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে সরকারি কাজের দোহাই দিয়ে আবারো শুরু হয়েছে কালনী-কুশিয়ারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন।
এতে করে শঙ্কা আর উৎকন্ঠায় দিন কাটছে নদীড় পাড়ে বসবাসরত সাধারণ মানুষ এবং কৃষকদের।
.jpg)
অপরিকল্পিত এই বালু উত্তোলনের ফলে নদীর পাড়ে থাকা ফসলি জমি এবং কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধ হুমকিতে পড়বে বলেও আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, চলতি বছরের বন্যায় আজমিরীগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়কটির বিভিন্ন অংশে ভেঙ্গে যায়। এরই প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১লা সেপ্টেম্বর জেলা নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে হবিগঞ্জের তাজউদ্দিন ট্রেড্রাস নামে একটি প্রতিষ্টান প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকায় কাজটি পান। এরপর কাজটি কিনে নেন উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মমিনুর রহমান সজীব। উক্ত দরপত্রে জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে বালু মাটির জন্য নদী থেকে ড্রেজিং এর অনুমোদন দেয়া হয়।
.jpg)
রাস্তা সংস্কারের এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বালুখেকো চক্রের হোতা উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের রসুলপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সানি স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পৌরসভা এবং সদর ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে নির্মিত ফসল রক্ষা বাঁধের নিচে কালনী-কুশিয়ারা নদীর তলদেশ কেটে বালু উত্তোলন শুরু করে।
সরেজমিনে নোয়ানগর গ্রামের বাধঁ সংলগ্ল কালনী-কুশিয়ারা নদীতে গিয়ে দেখা য়ায়, দিনে দুপুরেই ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদীর তলদেশ কেটে চলচে বালু উত্তোলন।
ড্রেজার মেশিন চালক জানান, মিজানুর রহমান সানি আমাদের এনেছেন বালু তুলতে। ভাইস চেয়ারম্যানের রাস্তায় বালু ফেলা হচ্ছে।
.jpg)
স্থানীয় বাসিন্দা রেজুয়ান মিয়া জানান, এর আগে নদী ভাঙ্গনে আমাদের কিছু জমি নদীতে বিলিন হয়। তারপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ নির্মানের সময় আরো ৫৪ শতাংশ জমি বাঁধের জন্য নষ্ট হয়। এখন সেই বাঁধের নিরাপত্তা গোড়ায় আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন।
এ বিষয়ে মিজানুর রহমান সানির মুটোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল বাছির জানান, সরকারি কাজের জন্যই ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের অনুমতি দেয়া হয়েছে। উর্ধতন কতৃপক্ষের সাথে আলাপ করেই এই অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে রাস্তা সংস্কারের জন্য যতটকু বালু প্রয়োজন ততটুকুই তুলতে হবে এর বেশী কেউ তুলতে পারবেন না।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) শফিকুল ইসলাম বলেন, শুধু মাত্র রাস্তা মেরামতের জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। জেলা নির্বাহী প্রকৌশল অধিদপ্তরের দরপত্রে ড্রেজিং করে উক্ত কাজে ব্যাবহারের কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে জমি কিংবা মানুষের বাসস্থানের কোন ক্ষতি হয় এমন করে কেউ বালু উত্তোলন করতে পারবেন না।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/মিলাদ/এসডি-০৫




