ছবি: সিলেট ভিউ।

‘ট্রাভেল পাস পেলেও ভারত থেকে ফিরতে পারছেন না সিলেটের জাকির’ এই শিরোনামে সিলেটভিউয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়ে প্রশাসনের। ১৯ জুন প্রকাশিত এই সংবাদের পর তোড়জোড়ভাবে শুরু হয় জাকিরকে দেশে ফেরানোর কাজ। অবশেষে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার বছর পর ভারতে সাজাভোগ শেষে দেশে ফিরেছেন তিনি। 

 


বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ১০টায় সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

 

শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেওলা স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের ইনচার্জ এসআই এমএইচ সজল।

 

তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এবং দুই দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশের উপস্থিতিতে জাকির হোসেনকে গ্রহণ করা হয়। পরিচয় যাচাইসহ প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

ভারতে সাজাভোগ করে ফিরে আসা ওই যুবক মো. জাকির হোসেন (৩৪)। তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯ নম্বর সুরমা-কালিকাপুর ইউনিয়নের আব্দুল মন্নানের ছেলে। তিনি মানসিক প্রতিবন্ধী বলে জানা যায়। 

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রতিদিনের মতো সকালে জাকির বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পেরিয়ে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। এরপর আমরা আত্মীয়স্বজনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার খোঁজাখুঁজি করি। দীর্ঘদিন অনুসন্ধান চালিয়েও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় একসময় আমরা প্রায় আশাই ছেড়ে দিই। পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একটি মানবাধিকার সংস্থার মাধ্যমে জানতে পারি যে, জাকির হোসেন ভারতের আসাম রাজ্যের কাছাড় জেলার শিলচর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

 

এরপর তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন, মানবাধিকার সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতায় তার ট্রাভেল পারমিট (টিপি) সংগ্রহসহ প্রয়োজনীয় প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত কাগজপত্র প্রস্তুত করা হয়।

 

জাকিরের নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, গুয়াহাটিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশন তাকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে শনাক্ত করে গত ৬ মে ২০২৬ তারিখে তিন মাস মেয়াদি একটি ট্রাভেল পারমিট ইস্যু করে। এতে উল্লেখ করা হয়, শিলচর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা জাকির হোসেনের সাজার মেয়াদ গত ৮ মে শেষ হয়েছে এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

 

অবশেষে বিভিন্ন জটিলতা পেরিয়ে সকল কাগজপত্র ও আইনানুগ সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৃহস্পতিবার সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারত থেকে বাংলাদেশের কাছে জাকির হোসেনকে হস্তান্তর করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

 

দীর্ঘ চার বছর পর জাকিরকে ফিরে পেয়ে স্বজনদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের পরিবেশ বিরাজ করছে। জাকিরের বাবা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘ছেলেকে ফিরে পেয়ে সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমরা তো তার ফিরে আসার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। এর মধ্যে ছেলেকে ফেরত পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’

 

সিলেটভিউয়ে প্রকাশিত নিউজ- ট্রাভেল পাস পেলেও ভারত থেকে ফিরতে পারছেন না সিলেটের জাকির

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া-০১