সিলেটের গোয়াইনঘাটে স্বাধীনতার ৫১ বছর পর গণকবরে শায়িত শহীদদের প্রতি প্রথম শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করা হয়েছে। গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ, স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার আব্দুল হক, পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আফিয়া বেগম ও গোলাম আম্বিয়া কয়েস,অফিসার ইনচার্জ কেএম নজরুল ইসলামসহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের নিয়ে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
বুদ্ধিজীবী দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে-উপজেলা প্রশাসন বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্মাণাধীন পূর্ণানগর গণকবরের শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন।
দীর্ঘদিন থেকে পূর্ণানগর গণকবরকে চিহ্নিত করে সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা মানববন্ধনও করেন। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই উপজেলা থেকে ৮৩৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাদের জীবনবাজি রেখে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। এ সময় অনেক মুক্তিযোদ্ধা এবং তাদের পরিবারের লোকজনকে ধরে নিয়ে গিয়ে গুলি করে হত্যা করে পাক হানাদার বাহিনী। যাদের গোয়াইনঘাটের বিভিন্ন জায়গায় গণকবর দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে তামাবিল, আটলিহাই ও হাটগ্রামের গণকবর রক্ষণাবেক্ষণ করা হলেও স্বাধীনতার ৫০ বছর পর আজও চিহ্নিত এবং রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি গোয়াইন সেতু সংলগ্ন পূর্ণানগরের ২৩ জন শহীদের গণকবর। প্রায় নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া এই গণকবরটি চিহ্নিত করে এটি রক্ষণাবেক্ষণের জোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন মুক্তিযোদ্ধারা। এ প্রেক্ষিতে বুধবার পূর্ণানগর গণকবর চিহ্নিত করে তাতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ জানান, পূর্ণানগর গণকবরে মুক্তিযুদ্ধের পর এই প্রথম শ্রদ্ধা জানানো হলো।
বিজয় দিবসে সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ’র উদ্বোধন করবেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমদ এমপি। তিনি বলেন, এতো বছর পর শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আনন্দ লাগছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইআ-০১




