হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কোনভাবেই থামছে না বালু খেকোদের দৌরাত্ম। কখনো নদী খনন, কখনও রাস্তা সংস্কার আবার কখনো সরকারি ঘর নির্মাণের অযুহাতে দিনের পর দিন অপরিকল্পিত ভাবে নদীর তলদেশ কেটে চলছে এই বালু উত্তোলন। এর ফলে নদী ভাঙ্গন, মাছের অভয়ারণ্যে বিনিষ্ট হওয়া সহ সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।
বিগত দিনে জেলার বিভিন্ন নদ-নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়টি বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জেলা সিনিয়র ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসেন স্ব প্রনোদিত হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
জানাযায়, আজমিরীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের ভাটি কুশিয়ারা নদীটি মাছ আহরনের জন্য সরকারি ভাবে ছয় বছরের জন্য ইজারা নেয় দোয়েল মৎস্য সমবায় সমিতি লিমিটেড। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় পাইল বিল(তিনবছর মাছকে সংরক্ষন ও বড় করে পরের তিনবছর মাছ বিক্রি করা)। বিগত তিন বছর মাছের চাষ শেষে সম্প্রতি তারা মাছ বিক্রি শুরু করছেন। কিন্তু বুধবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে নদী থেকে হঠাৎ করে বালু উত্তোলন শুরু করেন। উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের নোয়াগড় গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান মিয়া গংরা। বিষয়টি জানাজানি হলে দোয়েল মৎস্য সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি আলাই মিয়া নদী থেকে থেকে বালু উত্তোলন করতে বাঁধা প্রদান করে ব্যার্থ হন।
দোয়েল মৎস্য সমবায় সমিতির সভাপতি আলাই মিয়া জানান- মরা কুশিয়ারা পাইল বিলটি আমরা ছয় বছরের জন্য লীজ নিয়েছি। তিন বছর শ্রম এবং লক্ষ লক্ষ টাকা খরছ করে মাছ সংরক্ষণ করছি। এখন মাছ বড় হয়েছে। আমাদের মাছ আহরণের সময় এখন। কিন্তু এখন এই ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে আমাদের সমস্ত শ্রম এবং টাকা নষ্ট হয়ে যাবে। বিষয়টি আমি এসিল্যান্ড মহোদয়কে অবগত করলে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে কথা বলতে বলেন। আমি মুটোফোনে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীকে বিষয়টি জানালে তিনি আমাকে ইজারা বাতিল করে দিবেন বলে হুমকি দেন। এমনকি ইউএনও মহোদয়কে দিয়ে আমাকে সাজা ও দিবেন বলে হুমকি দেন ।
এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বালু উত্তোলনকারী শাহজাহান মিয়া জানান -আমি কুদালিয়ায় বালু তুলছি। ভাটি কুশিয়ারাতে সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোবারুল এবং মস্তু মিয়া গুচ্চগ্রামের বালু তুলছেন।
সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম মোবারুল জানান- বিষয়টি সস্পুর্ণ মিথ্যা। বরং আমি বালু তুলতে বাঁধা দিয়েছি কারন পাশে একটি ব্রীজ রয়েছে। বালু তুললে ব্রীজের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। আর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের। তাই আমি আর কিছু বলেনি বালু উত্তোলন বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের।
বিষটি নিয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভুমি) শফিকুল ইসলাম বলেন, সরকারি গুচ্ছ গ্রাম প্রকল্পের ১৩০ টি ঘর নির্মানের জন্য বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এনামুল/নাজাত-০৫




