বিজয়ের ৫১ বছরেও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অরক্ষিত রয়ে গেছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বধ্যভূমিগুলো। শুধু অরক্ষিতই নয়, কোন কোন বধ্যভূমি পরিণত হয়েছে বখাটেদের অভয়াশ্রমে। আবার কোন কোন বধ্যভূমি পরিণত হয়েছে সিএনজি অটোরিক্সা স্ট্যান্ডে। এছাড়াও হবিগঞ্জ জেলায় মোট কতটি বধ্যভূমি রয়েছে সঠিক ভাবে সেগুলোও চিহ্নিত করা যায়নি। আর যেসব বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে সেগুলোতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়। এমতাবস্থায় বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করণসহ যথাযথ সংরক্ষণের দাবী মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের। 


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলায় প্রায় ডজনেরও অধিক বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংরক্ষিত আছে মাত্র তিনটি বধ্যভূমি। তিনটির মধ্যে আবার জেলার বাহুবল উপজেলায় অবস্থিত ফয়জাবাদ হিল বধ্যভুমিতে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করলেও সারা বছর থাকে অরক্ষিত। আর শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমিটি পরিণত হয়েছে সিএনজি অটোরিক্সার স্ট্যান্ডে। যদিও প্রতিবছরই ডিসেম্বর মাস আসলেই সেখানে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়, করা হয় রংও। শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমিটি দাউদনগর রেল গেইটের পাশে অবস্থিত। 



সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অযত্ন আর অবহেলায় পড়ে রয়েছে শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমিটি। পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে সিএনটি অটোরিক্সা স্ট্যান্ড। মাঝে মধ্যে বধ্যভূমির ভেতরেও রাখা হচ্ছে অটোরিক্সাগুলো। সেখানে ফেলা হচ্ছে ময়লা আবর্জনাও। বিজয়ের ৫১ বছরেও সেখানে স্থাপন করা হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। কেবল মাত্র একটি সাইনবোর্ড টানিয়ে আর তার কাটার বেড়া দিয়ে দায় সেরেছে উপজেলা প্রশাসন। ১৯৭১ সালে পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার এক শোকাবহ স্মৃতিচিহ্ন অঙ্কিত হয়ে আছে এ বধ্যভূমিটি। এখানে পাকবাহিনী লালচান্দ চা-বাগানসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মুক্তিযোদ্ধাসহ ১১ জনকে ধরে এনে হত্যা করে গণকবর দেয়। 


শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমির মতো একই অবস্থা ফয়জাবাদ হিল বধ্যভুমিরও। সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করলেও সারা বছর থাকে অরক্ষিত। যে কারণে দিন দিন বধ্যভূমিটি পরিণত হয়েছে বখাটেদের অভয়াশ্রমে। এছাড়াও চুনারুঘাট পৌর শহরে অবস্থিত বধ্যভূমিটি সংরক্ষণেও নেয়া হয়নি কোন উদ্যোগ। শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমির মতো সেখানেও নাম সর্বস্ব টানানো রয়েছে একটি সাইনবোর্ড। সাইনবোর্ডের চার পাশে পড়ে রয়েছে ময়লার স্তুপ। যে কারণে দুর্গন্ধে সেখানে কোন মানুষই যায় না। যুদ্ধের সময় উপজেলার সীমান্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে স্বাধীনতাকামী সাধারণ মানুষকে হত্যা করে কাউকে খোয়াই নদীতে ভাসিয়ে দিতো আবার অনেককে খোয়াই নদীর তীরে পুঁতে রাখতো পাকবাহিনী। এমতাবস্থায় বধ্যভূমিগুলো চিহ্নিত করণসহ যথাযথ সংরক্ষণের দাবী মুক্তিযোদ্ধাসহ শহীদ পরিবারের সদস্যদের।


এ ব্যাপারে হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান বলেন, ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি বধ্যভূমি সংরক্ষণ করা হয়েছে। বাকীগুলোও পর্যায়ক্রমে সংরক্ষণ করে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও শায়েস্তাগঞ্জ বধ্যভূমিটি নিয়ে কিছু জটিলতা রয়েছে। জটিলতা শেষ হলেই সেখানে স্মৃতিতম্ভ নির্মাণ কাজ শুরু হবে।  

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জাকারিয়া/ইআ-০২