জালালাবাদ ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে 'মহান বিজয় দিবস ২০২২' উদযাপন করা হয়।

 


সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। এছাড়া চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, কবিতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

 

প্রতিষ্ঠানের অডিটোরিয়ামে আয়োজন করা হয় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ, মুক্তিযুদ্ধের আলোচনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং পুরস্কার বিতরণ।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মোঃ কুদ্দুসুর রহমান, পিএসসি।

 

আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সিলেট মহানগর শাখার সাংগঠনিক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা চিত্তরঞ্জন দেব।

 

আরও উপস্থিত ছিলেন- ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ সহকারী অধ্যাপক শারমীন আক্তার, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।

 

প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ফরহাদ জামান ও নাহিয়ান মৃত্তিকার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কোরআন থেকে তেলওয়াত করেন প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী জাকারিয়া নাঈম।

 

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন সহকারী শিক্ষক মোঃ ইমদাদুল হক যুবায়ের।

 

রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শফিউল আলম রুহিন, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসা আক্তার ভূঁইয়া এবং সম্মাননীয় সেনাপ্রধানের বাণী পাঠ করেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহমিদ আল সাজিদ।

 

মহান বিজয় দিবসের তাৎপর্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও তরুণ প্রজন্মের করণীয় সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন প্রভাষক ফাহিম উদ্দিন ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাহরিমা তাবাসসুম তমা।

 

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ তাঁর বক্তব্যে বলেন, '১৬ই ডিসেম্বর বাঙালি জাতির হাজার বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবান্বিত দিন। যেদিন এক দীর্ঘ ও রক্তক্ষয়ী জনযুদ্ধের অবসান ঘটেছিল আমাদের চূড়ান্ত বিজয়ের মধ্য দিয়ে। ৩০ লক্ষ শহিদের জীবন উৎসর্গ, অগণিত মা-বোনেদের সম্ভ্রমহানি এবং বীরত্বপূর্ণ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ৭১ এর এই দিনে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে জন্ম হয়েছে বাংলাদেরশের। বিজয়ের এই দিনে স্মরণ করছি সেইসব বীর সেনানীকে, যারা শোষণ-বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে অনাগত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি দেশ উপহার দিয়েছেন। যেসব নর-নারীর সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে আমরা আজ স্বাধীন, তাদের সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান জানাচ্ছি।আমি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছি বাংলার অসংবাদিত নেতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যার ডাকে সর্বস্তরের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে দেশকে স্বাধীন করেছে।'

 

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অধ্যক্ষ বলেন, 'স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশেকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ সোনার বাংলায় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিণির্মাণের জন্য দরকার আলোকিত মানুষ, সোনার মানুষ। এই আলোকিত মানুষ, সোনার মানুষ হওয়ার জন্য তোমাদের মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে হবে এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্দীপিত হয়ে তোমাদের নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও জ্ঞানশক্তিতে ঋদ্ধ হতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ১৬ই ডিসেম্বর শুধুই আমাদের বিজয়ের দিন নয়, বেদনারও দিন। আমাদের চেতনা জাগরণেরও দিন। যাঁদের ত্যাগ-তীতিক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে আমরা এই গৌরবের অধিকার পেয়েছি, তাদের সেই কথা মনে রেখে আমাদেরও সেই চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। তবেই বিজয় দিবসের মহিমা অর্থবহ হয়ে উঠবে। স্বাধীনতার ৫১ বছরের যে আলোক শিখা জ্বলছে তা থেকে পথনির্দেশ পেয়ে তোমাদের তারুণ্যের জাগরণ ঘটাতে হবে।'

 

আমন্ত্রিত বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধকালীন বিভিন্ন স্মরণীয় ঘটনা, দুঃসহ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও যৌথবাহিনীর বিভিন্ন  কর্মকাণ্ড উপস্থাপন করে শিক্ষার্থীদেরকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস চর্চা ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হওয়ার আহবান জানান।

 

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও নৃত্য  পরিবেশনা।

 

বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃত্তি এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে শুভেচ্ছা উপহার এবং সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী  শিক্ষার্থীদের অধ্যক্ষ মহোদয় শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করেন।

 

বিজয় দিবস অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সহকারী অধ্যাপক স্বপন কুমার বিশ্বাস ও সদস্য হিসেবে ছিলেন অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/প্রেবি/এসডি-১৬