হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার চৌমুহনী ইউনিয়নের সোনাই নদীতে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। মঙ্গলপুর, আলাবক্সপুর, অলিপুর এলাকা থেকে একটি সংঘবন্ধ প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে রাতের আধারে অবৈধ ভাবে বালু চুরি করে বিক্রি করে আসছে। এতে সরকার হারাচ্ছে মোটা অংকের রাজস্ব। এ নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের নেই কোন মাথা ব্যথা। ঐ এলাকায় পুলিশ ফাঁড়ি ও মনতলা ভূমি তহসীল অফিস থাকলেও নেয়া হচ্ছেনা কোন কার্যকর ব্যবস্থা।

 


মাধবপুর ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায় চৌমুহনী সোনাই বালু মহাল বর্তমানে সরকার কর্তৃক কোন ইজারা নেই। পূর্বে আলফাজ এন্টার প্রাইজ নামে ইজারা ছিল। আলফাজ এন্টার প্রাইজের উত্তোলিত বালু সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় এগুলো বিক্রি বন্ধ করার জন্য উপজেলা প্রশাসন নির্দেশনা প্রদান করেন। বর্তমানে কোন রকম ইজারা না থাকা সত্তেও দীর্ঘদিন ধরে ঐ প্রভাবসালী চক্রটি স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাত ৮টার পর থেকেই সারারাত ব্যাপী ট্রাক্টর দিয়ে এলাকার বিভিন্ন স্থানে বালু বিক্রি করে থাকে। 

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় কাশিম নগর পুলিশ ফাঁড়িকে অবগত করলেও তারা কোন পদক্ষেপ নেয় নি। পুলিশ আসার খবর পেলেই ট্রাক্টরের বালু ফেলে চলে যায় তারা। 

 

মাধবপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মনজুর আহসানের সাথে মোবাই ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের মোবাইল কোট চলমান রয়েছে, সংবাদ পেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেব। 

কাশিম নগর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আরিফুর রহমানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আজ থেকে খোজ নিয়ে বালু চুরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। গত কিছুদিন পূর্বে মাধবপুর চুনারুঘাট সার্কেলের এ এস পি তুলশীপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে একটি বালু ভর্তি ট্রাক্টর জব্ধ করে মামলা দেন। কিন্তু তুলশীপুর বাজারে বালু বিক্রির সাথে জড়িত সিন্ডিকিটের কোন সদস্যকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা এর সাথে জড়িত ছিল না এমন লোকের বিরোদ্ধেও মামলা হয়েছে। 

 

এই বালু চুরির বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিভিন্ন মহলে নানা রকম প্রশ্ন উঠেছে। 

 

 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ শামীম/ নাজাত-০৩