ছবি : আহমেদ শাহিন
সিলেট মহানগরের সবচেয়ে ব্যস্ততম এলাকা বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার ও চৌহাট্টা। তাই এ এলাকাগুলোর সড়কও নগরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত।
বন্দর থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত সড়ক নিয়ে ২০২০ সালের শেষ দিকে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করে সিলেট সিটি করপোরেশেন। ওই বছরের নভেম্বরে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়কটি সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুই পাশের স্থাপনা ভেঙ্গে সম্প্রসারিত হয় এ সড়ক। সংস্কার করা হয় সড়কের দুই পাশের ড্রেন ও ফুটপাত। সম্প্রসারণের পর সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার দিয়ে তাতে দৃষ্টিনন্দন গ্রিল বসানো হয়। পরে ডিভাইডারে লাগানো বাহারি সব ফুলের গাছ। ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে এ সড়কে যানজট কমানো ও শৃঙ্খলা ফেরানোর লক্ষ্যে রিকশা, লেগুনা ও ভ্যানগাড়ি চলাচল বন্ধ করা হয়।
এদিকে, সড়কটির ডিভাইডারে প্রথম লাগানো ফুলগাছগুলো পরিচর্চার অভাবে কয়েকদিন পরই মরে যায়। এতদিন ডিভাইডারে আর কোনো ফুলগাছ লাগানো না হলেও সম্প্রতি বন্দরবাজার থেকে আম্বরখানা পর্যন্ত ডিভাইডারে ফের লাগানো হলো গাঁদাসহ নানা জাতের বাহারি ফুলগাছ।
তবে সিসিকের প্রতি সচেতন নগরবাসীর দাবি- প্রথমবারের মতো এবারও যেন অবহেলায় গাছগুলো নষ্ট না হয়। সঠিক পরিচর্চার মাধ্যমে বেশিদিন যাতে ফুলগাছগুলো বাঁচিয়ে রাখা যায়- সেই দাবিই করছেন তারা।
জানা যায়, ২০১৯ সালের নভেম্বরে চৌহাট্টা-জিন্দাবাজার সড়ক সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সড়কের দুই পাশের স্থাপনা ভেঙ্গে সম্প্রসারিত হয় সড়ক। সংস্কার করা হয় সড়কের দুই পাশের ড্রেন ও ফুটপাত। সম্প্রসারণের পর সড়কের মাঝখানে ডিভাইডার বসিয়ে দুই পাশ দিয়ে চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়।
একই সময়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ও সিটি করপোরেশনের সহযোগিতায় এই সড়কের মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়। এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর উপর থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বিদ্যুৎসহ বিভিন্ন পরিসেবার তারের জঞ্জাল। যদিও ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন প্রকল্পের কাজ শেষেও সড়কের মাঝখানে খুঁটি বসিয়ে বিদ্যুতের লাইন টানা হয়েছে। তবে সড়কের দুই পাশ থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় বৈদ্যুতিক খুঁটি এবং ট্রান্সমিটারও।
পরে সড়কের মাঝখানে ডিভাইডারের সৌন্দর্যবর্ধণের কাজ শুরু হয়। ডিভাইডারে বসানো হয় কারুকার্যময় গ্রিল ও বিভিন্ন ফুলের গাছ। যা নগরবাসীর দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হয়। এছাড়াও এ রাস্তায় রিকশা, ভ্যান ও লেগুনা গাড়ি চলাচল বন্ধ করে ও ফুটপাত থেকে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে পথচারী ও নগরবাসীকে অনেকটা স্বস্তি দেয় সিসিক। তবে সে স্বস্তি দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়নি। কয়েক মাসের মধ্যেই ফের এ সড়কের দুপাশে এবং ফুটপাতেও বসতে শুরু করেন হকাররা। বর্তমানে হকারদের জন্য এ রাস্তায় চলাচল করতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় পথচারীদের। প্রথম প্রথম মহানগর ট্রাফিক পুলিশের সহায়তায় সিসিক অভিযান চালালেও এখন যেন হাল দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষ।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




