গ্যাসের নির্ধারিত মাসিক বরাদ্দের লিমিট শেষ হওয়ায় সিলেটের বেশ কয়েটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যসি সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ফলে সিলেটে তৈরি হয়েছে গ্যাসের তীব্র সংকট।
হাতেগোনা যে কয়টি পাম্প খোলা আছে সেগুলোতেও যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। দেয়া হচ্ছে চাহিদার অর্ধেকেরও কম গ্যাস। গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
সাপ্তাহের প্রথম দিন শনিবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে থেকে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে সরবরাহ না পেয়ে গাড়িকে ফিরতে হয়েছে গ্যাস ছাড়াই। এতে বিপাকে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির চালক-যাত্রীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, গ্যাসের নির্ধারিত মাসিক বরাদ্দের লিমিট শেষ হওয়ায় অনেক সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের চাম কম রয়েছে। তাই সেগুলো সাময়িক বন্ধ রয়েছে। আর যেগুলো খোলা আছে সেগুলোতেও গ্যাসের চাপ কম। ফলে সবাইকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না, একই সাথে যানবাহনে চাপ বেড়েছে।
গ্যাস সরবরাহে ঘাটতি হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারন মানুষ। মামুন নামের এক যাত্রী প্রইভেট কার যোগে সুনামগঞ্জ যাবেন। কিন্তু আম্বরখান, মদিনা মার্কটে অবস্থিত সিএনজি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘসময় অপেক্ষা করেও গ্যাস পাননি।
ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাসের তীব্র সংকটে পড়েছে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন। চাপ বেড়েছে খোলা থাকা স্টেশনের ওপর। সেসব স্টেশন থেকেও যানবাহনগুলোকে চাহিদার তুলনায় অর্ধেকের চেয়েও কম গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। ফলে যানবাহনগুলোও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় চলতে পারছে না।
মনির নামের এক চালক জানান, বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা এমনিতেই সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলো বন্ধ থাকে। কিন্তু আজ অনেক পাম্পগুলো সকল থেকেই গ্যাস সর্বরাহ বন্ধ করে দেয়। যে এক দুটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন খোলা আছে সেগুলোতেও দীর্ঘ লাইন।
সিলেট পেট্রোল পাম্প অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী জানান, সিলেট জেলার প্রতিটি পাম্পেই নির্দিষ্ট পরিমাণে মাসিক গ্যাস বরাদ্দ দেয় জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানি। কিন্তু মাস শেষের আগেই বিশেষ করে তৃতীয় সাপ্তাহে জেলার অনেক পাম্প বরাদ্দকৃত গ্যাস বিক্রি করে দেয়। ফলে মাস শেষের আগেই গ্যাস সংকটে পড়ে এসব পাম্প। গত চার-পাঁচ মাস ধরে এই সংকট হচ্ছে। তবে এই সংকট থাকে দুই থেকে তিন দিন।
জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী বলেন, ২০০৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী জালালাবাদ আমরাদের গ্যাস সর্বরাহ করে থাকে। এখন ২০২২, যানবাহন বেড়েছে। গ্যাসের চাহিদাও বেড়েছে। আমরা জালালাবাদ গ্যাস কোম্পানিকে মাসিক বরাদ্দের পরিমাণ পরিমাণে বাড়ানোর আবেদন করেছি। তবে দেশে যদি প্রকৃতিক গ্যাস উৎপাদন না হয়ে তবে আমরা গ্যাস কোথা থেকে পাবো।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডি.আর




