দলের নেতা আ ফ কামাল হত্যার ঘটনায় অবশেষে প্রতিবাদ-কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সিলেট জেলা বিএনপি। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার (২৫ ডিসেম্বর) দুই দিনের কর্মসূছি ঘোষণা করেছে দলটি। 

গত ৬ নভেম্বর রাতে প্রকাশ্যে গাড়ি আটকে কুপিয়ে খুন করা হয় সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক আ ফ ম কামালকে। হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেন মহানগর যুবলীগ নেতা ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান সম্রাট।


এ ঘটনার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে সিলেটের রাজনীতি। ৬ নভেম্বর হত্যাকান্ডের রাতে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের। আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সভা উপলক্ষে টানানো তোরণ, ব্যানার ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। অন্যদিকে, বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের ব্যানার ফেস্টুন ভাঙচুর করে ছাত্রলীগ।

কামাল হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত নিরব থেকে যায় সংগঠনটি। এ নিয়ে দলের মধ্যে দেখা দেয় অসন্তোষ। তবে শেষ পর্যন্ত দলটির তৃণমূলের প্রত্যাশাকে পূরণ করার লক্ষ্যে রোববার দুই দিনের কর্মসূচির ডাক দিয়েছে জেলা বিএনপি। 

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী জানিয়েছেন, কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- আগামী ১ জানুয়ারি দুপুর ১২টায়  জেলা বিএনপি ও সকল উপজেলা-পৌর বিএনপির উদ্যোগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবরে জেলা প্রশাসক ও নিজ নিজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান এবং আগামী ৮ জানুয়ারি সকাল ১১টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন।

কর্মসূচি ঘোষণার আগে রোববার সকালে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর নেতৃত্বে আ ফ ম কামালের কবর জিয়ারত করেন জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ। পরে তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তারা। 

এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, বিএনপি নেতা একেএম তারেক কালাম, আজির উদ্দিন, ইসলাম উদ্দিন, আবুল কাশেম, আজীজুর রহমান আজিজ, জসিম উদ্দিন, আফর খাঁন, আলতাফ হোসেন সুমন, রফিকুল ইসলাম শাহপরান, রফিকুল ইসলাম, বাদশাহ আহমদ, জৈইন উদ্দিন, হাজী জাহেদ আহমদ, ফারুক মিয়া, আকবর আলী, সফিক আলী,  মাসুক মিয়া,  আফসর খান, আজিজ খান সজিব, আমজ হোসেন,  আমিনুর রহমান আমিন, গোলাম কিবরিয়া, সামাদ হোসেন, আমিনুল ইসলাম, নুরুল আলম, তারেক আমিন, জালা উদ্দিন, রুস্তম আলী, সাইদুল ইসলাম, কামরুল রানা, কাজী সুমন, মো. আলী হীরা প্রমুখ। 
 
উল্লেখ্য, গত ৬ নভেম্বর রাতে প্রাইভেটকার চালিয়ে বালুচরস্থ বাসায় ফিরছিলেন বিএনপি নেতা ও সিলেট আইন মহাবিদ্যালয়ের সাবেক জিএস আ ফ ম কামাল। বড়বাজার এলাকায় আসার পর আজিজুর রহমান সম্রাটের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক মোটর সাইকেলে এসে প্রাইভেটকারটির গতিরোধ করে। পরে গাড়ির ভেতরে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে ফেলে যায় তারা। আর্তচিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এসে কামালকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। 

কামাল হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে রাস্তায় বিক্ষোভে নামেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এসময় নগরীর রিকাবীবাজারে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি সম্মেলন উপলক্ষে লাগানো ব্যানার, ফেস্টুন, তোরণ এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ভাঙচুর করেন তারা। এ ঘটনার পর সেখানে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়। ওই রাতেই বিএনপি বিক্ষোভ সমাবেশ করে কামাল হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দেয়। এরপর ওই আল্টিমেটাম থেকে সরে এসে ১৯ নভেম্বর বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষে কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানায়। কিন্তু বিভাগীয় গণসমাবেশ শেষ হলেও কোনো কর্মসূচি দিতে পারেনি বিএনপি। এ নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হলে ১০ ডিসেম্বর ঢাকার সমাবেশের পর কামাল হত্যাকান্ডের ঘটনায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার আশ্বাস দেন নেতারা। সেই আশ্বাসের ভিত্তিতে রোববার কর্মসূচি ঘোষণা করলো জেলা বিএনপি।  

এদিকে, হত্যাকান্ডের পর র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৩ আসামিকে গ্রেফতার করে। এছাড়া উচ্চ আদালত থেকে দুই আসামি অর্ন্তবর্তীকালীন জামিন নেন। কিন্তু এখনো অধরা রয়ে গেছে প্রধান আসামি আজিজুর রহমান সম্রাট। তাকে ধরতে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে অভিযান চালিয়েছিল র‍্যাব ও পুলিশ। কিন্তু তাকে ধরতে পারেনি। প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমেও তার অবস্থান সনাক্ত করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ জানান, সম্রাটকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে। কিন্তু কোনোভাবেই তার অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেফতারে সোর্স লাগানো হয়েছে। দেশ থেকে যাতে পালাতে না পারে সেজন্য সকল ইমিগ্রেশনে বার্তা পাঠানো হয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম