ছবি : সিলেটভিউ

এখানে কেউ আসেন জমি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে, কেউ গাড়ির লাইসেন্স কিংবা অন্যান্য কাগজপত্রের জন্য, আবার কেউ আসেন বিভিন্ন মামলার পক্ষ-বিপক্ষ হয়ে।

এসব কাজে এসে বেশিরভাগ সময়ই এখানে কাটাতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কাজের দুশ্চিন্তা ও অপেক্ষার অপ্রিয় প্রহরগুলোর সঙ্গী হয় চরম অস্বস্তি। তবে এবার সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে ঘটেছে ভিন্ন কিছু, সেবা নিতে আসা লোকজনকে জেলা প্রশাসক উপহার দিয়েছেন ‘এক টুকরো স্বস্তির উঠোন’।


সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ৩ নং ভবনের সামনে বেশ কিছু জায়গা নিয়ে করা হয়েছে ‘পুষ্পকানন’। গত শনিবার (১ জানুয়ারি) এ ফুলবাগানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান।

অনিন্দ্যসুন্দর বাগানটির পাশ দিয়ে গেলে থমকে দাঁড়াতে হয় পথচারীদের। ফেরানো যায় না চোখের দৃষ্টি। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে বিভিন্ন কাজে আসা লোকজনকে যাদুর মতো টানে এ বাগান। বাগান নয়, যেন এক চিলতে প্রশান্তি। 

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) সেখানে গিয়ে দেখা যায়- সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণের ‘পুষ্পকাননে’ ফুটে রয়েছে লাল-হলুদ গাঁদা, গোলাপ, বাগানবিলাস, স্যালভিয়াসহ নানা জাতের বাহারি অনেক ফুল। লাগানো হয়েছে সূর্যমুখী ফুলের চারা। কিছুদিন পরই যেগুলোতে হাসবে সূর্যমুখী, ‘পুষ্পকাননকে’ করে তুলবে আরও মোহনীয়।

বেলা ২টার দিকে ‘পুষ্পকাননে’ সেলফি তুলছিলেন সামাদ নামের এক যুবক। কথাচ্ছলে এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন- তাঁর গাড়ির কাগজের জন্য এখানে এসেছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নামাজ ও দুপুরের খাবারের জন্য টেবিলে নেই। তাই বাধ্য হয়ে সামাদকে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কিন্তু তাঁর আজকের এই অপেক্ষা কষ্টকর হচ্ছে না। কারণ- এই ‘পুষ্পকানন’। তার অপেক্ষার কষ্টকে আনন্দে রূপ দিয়েছে মনকাড়া এই ফুলের বাগান।

‘পুষ্পকানন’ করার জন্য তিনি জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।

ছবি তুলছিলেন সানজিদা ও মিম নামের দুই কলেজ শিক্ষার্থী। তারা জানান- জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ই-সেবা ডেস্কে একটি আবেদন দিতে তারা এখানে এসেছিলেন। এসে এত সুন্দর ফুলের বাগান দেখে ছবির তোলার লোভ সামলাতে পারেননি। 

এ তিনজন ছাড়াও অনেককেই বুধবার সেখানে ছবি তুলতে দেখা যায়। ছবি তোলা ছাড়াও অনেকেই বাগানের এখানে-সেখানে বসে নিচ্ছিলেন বিশ্রাম, স্বস্তির পরশ। 

এ বিষয়ে বুধবার সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান সিলেটভিউ-কে বলেন- সিলেটে আসার পর আমার কার্যালয়ে বসে যখন কাজ করতাম, তখন ওই জায়গাটায় নজর যেতো। জায়গাটা নিচু ছিলো, বৃষ্টি দিলেই পানি জমে যেতো। একরকম বাগাড়ই বলা যায়। এসব দেখার পরই আমার মনে হলো- এখানের বাগাড় অপসারণ করে সুন্দর কিছু একটা করা যায়। তাই সম্প্রতি এ জায়গায় মাটি ভরাট করে একটি বাগান করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে নানা জাতের ফুলগাছ। এখানে বিভিন্ন সেবা নিতে আসা মানুষজনকে যদি অপেক্ষা করতেই হয়, তবে সে অপেক্ষা যেন হয় একটু স্বস্তির।

তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে- এই বাগাড়ের মতো জায়গাটা ছিলো ঠিক মসজিদের পাশে। মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় কাদাপানি ছিটকে এসে শরীরে পড়তো। তাই যাতায়াতের রাস্তায় টাইলস লাগিয়ে এ  জায়গায় ফুলের বাগান করা হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের জন্য বাগানের পাশ দিয়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থাও করা হয়েছে।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম