সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার কেশবপুর এলাকা থেকে মেছো বাঘের একটি শাবক আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ জনিুয়ারি) সকালে একটি বাড়িতে ফাঁদ পেতে শাবকটিকে ধরা হয়। স্থানীয় লোকজন শাবকটিকে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে পৌরসভার কেশবপুর গ্রামে গীতিকবি রাধারমণ দত্তের সমাধি মন্দিরের বাড়িতে বসবাসকারী নন্দলাল দাসের হাঁস-মুরগির ঘরে মেছো বাঘের শাবকটি ঢুকে পড়ে। সেখানে গেলে নন্দলাল দাসকে কামড়ে দিয়ে শাবকটি পালিয়ে যায়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা শেষে গত শনিবার বাড়িতে আসেন নন্দলাল। তিনি শাবকটি ধরতে ফাঁদ পেতে রাখেন। আজ মঙ্গলবার ভোরে শাবকটি ফাঁদে আটকা পড়ে।
নন্দ লাল দাস বলেন, ‘শিয়াল মনে করে আমি মেছো বাঘের শাবকটি তাড়াতে গিয়েছিলাম। সেটি আমাকে কামড়ে জখম করে। আমার স্ত্রী লাঠি দিয়ে আঘাত করলে শাবকটি পালিয়ে যায়। আমার শরীরে বিভিন্ন জায়গায় সাতটি সেলাই দিতে হয়েছে।’
কেশবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘মেছো বাঘের শাবকটি নিয়ে কয়েক দিন ধরে গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সবাই মনে করেছিল এটি চিতা। শাবকটি ধরা পড়ার পর স্বস্তি এসেছে। উৎসুক লোকজন এটি দেখতে ভিড় করছেন। কেউ কেউ এটি মেরে ফেলার চেষ্টা করছিল। আমরা লোকজনকে বুঝিয়েছি। শাবকটি বন বিভাগে হস্তান্তর করার জন্য যোগাযোগ করেছি।’
সুনামগঞ্জ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা চয়ন ব্রত চৌধুরী আজ বেলা তিনটার দিকে বলেন, ‘আটক শাবকটির ছবি দেখেছি। এটি মেছো বাঘ বা মেছো বিড়াল হিসেবে পরিচিত। এটি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে গিয়ে আটকা পড়েছে। খবর পেয়ে আমরা রওনা দিয়েছি। মেছো বাঘের শাবকটি বনে অবমুক্ত করা হবে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত-০৮




