সিলেট মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফের শুরু হয়েছে খোঁড়াখুঁড়ি। বছরের পুরোটা সময়ই সিটি কর্পোরেশনের কোনো না কোনো বিভাগের কাজে নগরীর ব্যস্ততম রাস্তাগুলোত খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়। এতে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন নগরবাসী।
নগরবাসীর অভিযোগ- অপরিকল্পিতভাবে খোঁড়াখুঁড়ির কারণে অপচয় হচ্ছে অর্থের। পাশাপাশি ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরের বাসিন্দারা।
সম্প্রতি সিলেট মহানগরের নায়রপুল পয়েন্ট থেকে জিতু মিয়ার পয়েন্ট পর্যন্ত নতুন করে পানির লাইন বসানোর কাজ চলছে। এজন্য চলছে রাস্তার পাশ দিয়ে খোঁড়াখুঁড়ি। সড়কের পাশ থেকে খুঁড়ে তোলা মাঠি ফেলে রাখা হচ্ছে রাস্তার অর্ধেকজুড়ে। ফলে ব্যস্ততম এ সড়কগুলোতে দিনরাত লেগে থাকে যানজট। গাড়িচালক ও যাত্রীরা প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করছেন।
নগরবাসী বলছেন- বছরের পুরোটা সময়ই কোনো না কোনো কারণে রাস্তা খোঁড়া হচ্ছে। এতে ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিটি কর্পোরেশনের
সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাবে জনদুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নগরবাসীকে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়ীত্বশীল হওয়ার পরামর্শ তাদের।
বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমনিতেই ব্যবসার অবস্থা ভালো না। এর মধ্যে রাস্তার এমন খোঁড়াখুঁড়ির কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বন্দরবাজারে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ তদারকি করা সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার পাইপ লাইন ম্যাকানিক মো. আব্দুস সাত্তার সিলেটভিউ-কে বলেন- এখন নাইওরপুল পয়েন্ট থেকে জিতু মিয়ার পয়েন্ট পর্যন্ত নতুন পানির লাইল বসানোর কাজ চলছে। যার কারণে এ সড়কের পাশ খোঁড়া হচ্ছে। অধিকাংশ কাজই শেষ হয়ে গেছ। আগমী দশ-বারো দিনে মধ্যে বাকি কাজও শেষ হবে। পানির লাইনের কাজ শেষ হলে রাস্তা ঠিক করা হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, মহানগরীতে পানির নতুন লাইন বসানের জন্য ১৮ কোটি টাকার প্রজেক্ট হাতে নেয়া হয়েছে। তবে এসব কাজ করতে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অনেকেই জায়গা দিচ্ছেন না, আবার অনেক সময় বিভিন্ন সংস্থার অনুমতি নিতে হয়। গ্যাস লাইন আছে, আন্ডার গ্রাউন্ড ক্যাবল আছে। এছাড়া বর্ষার সময় জনগণের কথা চিন্তা করে কাজ বন্ধ রাখা হয়। যার কারণে কাজ ধীর গতিতে হয়।
আলী আকবর আরো জানান, প্রজেক্টের কাজ শেষ হলে এখন যেমন অনেক জায়গায় লিকেজ হচ্ছে তা আর হবে না। নগরবাসীকে বিশুদ্ধ পানি নিয়ে আর চিন্তা করতে হবে না। একই সাথে রাস্তা মেরামতের খরচও কমে যাবে।
তিনি বলেন- অন্যান্য দেশে ইউটিলিটি সার্ভিস নেয়ার জন্য একটি নির্দিষ্ট জায়গা থাকে। যেখান থেকে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন যায়। ওই নির্দিষ্ট জায়গা থেকে বলা যায় কোথায় সমস্যা হয়েছে। যার ফলে রাস্তার ক্ষতি হয় না। কিন্তু আমাদের সে ব্যবস্থা নেই। তাই সমস্যা হলে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতেই হয়।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম




