সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার খাঁসিহাওর, আলুবাগান এবং মোকামপুঞ্জিতে দেদারছে চলছে ছোট বড় টিলা কেটে পাথর উত্তোলনের মহাৎসব। একাধিকবার প্রশাসনের অভিযানের পরও থেমে নেই পাথর উত্তোলন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রভাবশালীচক্রের সদস্যরা খাঁসিহাওর, আলুবাগান ও মোকামপুঞ্জিতে কুয়া কিংবা পুকুর খননের নামে বিশাল এলাকা জুড়ে দেদারছে উত্তোলন করা হচ্ছে পাথর। হচ্ছে না অভিযান কিংবা গর্তকারীদের বিরুদ্ধে হচ্ছে না মামলা। উল্লেখিত এরিয়ায় অন্তত ৩০টি স্থানে ১শতাধিক গর্তকরে টিলা ও জুম কর্তন করে পাথর উত্তোলন অভ্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তের জিরো লাইন হওয়ার সুবাধে প্রশাসনের সদস্যরা এসব এলাকায় এখনও পৌছাতে পারেননি। যার কারনে প্রভাবশালী চক্র নিরাপদে সীমান্তের খাঁসি হাওর ১২৭৭নং আর্ন্তজাতিক পিলার হতে শুরু করে মোকামপুঞ্জি এলাকার ১২৭৯নং পিলার পর্যন্ত এবং আলুবাগান এলাকায় পাহাড় টিলা, সিলেট তামাবিল মহাসড়কের পাশ কর্তন করে পাথর উত্তোলন অভ্যাহত রেখেছে। গত বৎসর মোকামপুঞ্জি আলোচিত গর্তে পাথর উত্তোলনের দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তর জরিমানা এবং মামলা করলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন না করায় চলতি বৎসর চক্রটি পুনরায় কাজ শুরু করে।
.jpg)
ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্টেট এসব এলাকার শুধুমাত্র কয়েকটি গর্তে একাধিকবার অভিযান পরিচালননা করলেও প্রভাবশালীদের গর্ত সমুহে কোন প্রকার অভিযান হয়নি বলে অনেকেই জানান।
তারা আরও বলেন, খাঁসিটিলা হতে শুরু করে শ্রীপুর পর্যন্ত এবং আল বাগান এলাকায় পাথর উত্তোলনের গর্ত রয়েছে প্রায় ১শতটি। এপর্যন্ত অভিযান হয়েছে মাত্র ৫/৬টি গর্তে। বাকী গর্তে অভিযান না হওয়ায় পাথর খেকু চক্রের প্রভাবশালী সদস্যরা সীমান্তের জিরো লাইন এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অভিযান।
.jpg)
তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসন পরিবেশ অধিদপ্তর দ্রুত স্থায়ী টাস্কফৌস বাহিনী গঠন করে খাঁসি নদী, খাঁসি হাওর জুম, মোকামপুঞ্জি ও আলুবাগান এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার দাবী জানান। নতুবা বিচ্ছিন্ন ভাবে অভিযান পরিচালনা করলে পাথর উত্তোলন রোধ করা কোন ভাবেই সম্ভব নয় বলেন তারা। পাথর উত্তোলনকারীদের শেল্টারে রয়েছে একাধিক প্রভাবশালীরা।
জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল বশিরুল ইসলাম বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরকে পত্র মারফত ব্যবস্থা গ্রহনের জানানো হয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্যাট অভিযান অভ্যাহত রেখেছে। আমাদের অভিযান চলমান।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/সাব্বির/এসডি-১০




