গ্রিড বিপর্যয়ে গত বছর থেকে সারা দেশে লোডশেডিং বেড়েছে। গত গরমের মৌসুমে কোনো কোনোদিন ১৪-১৫ ঘণ্টাও সিলেটে থাকতো না বিদ্যুৎ। সংশ্লিষ্ট বলেছিলেন, শীত মৌসুমে অবস্থার উন্নতি ঘটবে। তবে শীতেও পিছু ছাড়ছে না লোডশেডিং। আপাতত এই পরিস্থিতির উন্নতির আশাও নেই। কারণ- জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদুৎ একাধিক কেন্দ্র চালানো যাচ্ছে না। একে একে বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। দেশের ছোট-বড় ১৩৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশিতে এখন জ্বালানি সংকট। শীত এলে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও এবার পরিস্থিতি উল্টো। সিলেটে প্রতিদিনই ৩-৪ বার কয়েক ঘণ্টা করে বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

 


এদিকে, প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে সিলেটের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল কিনে জেনারেটর চালানোয় খরচ বেড়ে যাচ্ছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ বাড়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা। শুধু ব্যবসায়ীরা যে ক্ষতির মুখে পড়ছেন তা নয়, ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থী, সকল শ্রেণির ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণকেও।

 

জিন্দাবাজারের কাপড় ব্যবস্যায়ী ইমন আহমদ সিলেটভিউ-কে বলেন, প্রতিদিন অন্তত পাঁচ বার লোডশেডিং হয়। এক এক বার লোডশেডিংয়ে বিদ্যুৎ থাকে না দেড়-দুই ঘণ্টা। বিদ্যুৎ যখন থাকে না তখন মার্কেটে ক্রেতারাও আসেন না। এভাবে আর কিছুদিন চলতে থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে ঘরে চলে যেতে হবে।

 

লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে মুদ্রণশিল্পেও। গ্রাফিক্স ডিজাইনার দ্বীপ জানান, লোডশেডিং প্রভাব ফেলেছে তার কাজে। ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ সময়মতো কাস্টমারদের দেওয়া যাচ্ছে না। যেসব কাজ ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে সেসব কাজের ডেলিভারিও সময়মতো আসছে না। যার ফলে কাস্টমাররা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

 

জিন্দাবাজারের পালকি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, লোডশেডিংয়ের কারণে তাদের ব্যবসাও ক্ষতির সম্মুখিন। প্রতিদিন ৬-৭ ঘন্টা জেনারেটর চালাতে হচ্ছে। ফলে ডিজেলে আলাদা করে খরচ বেড়েছে। আর এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়।

 

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- মরার উপর খাড়ার ঘা'র মতো আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমরা জনগণ যাবো কোথায়?

 

খাদ্যদ্রব্য তৈরি ও বিপণন কারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সাথে কথা বলে জানা যায়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের পর ব্যবসায় ঘুরে দাঁড়ানোর আশা করছিলেন তাাঁ। তবে বিদ্যুতের এই আসা-যাওয়ার খেলায় ঘুরে দাঁড়ানো তো দূরের কথা- উল্টো দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন কমে এসেছে অর্ধেকে। এমন অবস্থায় কর্মচারীদের বেতন দিতেই হিমশিন খেতে হচ্ছে তাদের।

 

বিদ্যুতহীনতায় ভোগান্তি পোহাতে হয় বিভিন্ন অফিস-ব্যাংকেও। লোডশেডিংয়ের কারণে গুরুত্বপূর্ণ সব কাজ আটকে যাচ্ছে। বন্ধ রাখতে হয় কম্পিউটার।

 

এমসি কলেজের শিক্ষার্থী রিমন জানান, সারাদিনে অন্তত ৬ বার লোডশেডিং হয়। এতে আমাদের পড়াশোনার মনযোগ নষ্ট হচ্ছে। দিনের অর্ধেক সময়ই বিদ্যুত থাকছে না।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডালিম /এসডি-৩৫