সিলেটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও সংকট রয়েছে গ্যাসের। সংকটের কারণে কয়েকটি পাম্প বন্ধও রয়েছে। যার ফলে পাম্পগুলোতে গ্যাস নিতে এসে গাড়িগুলোকে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কোনো কোনো পাম্পের দুপাশে মাইলখানেক লম্বা লাইনও থাকে গাড়ির। বিশেষ করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার লাইন থাকে দীর্ঘ। চালকদের আক্ষেপ- গাড়িতে গ্যাস ভরতে পাম্পে এসে তাদের চলে যায় আধা দিন। কোনো কোনো সময় প্রায় পুরো দিন। ফলে ভোগান্তি আর লোকসানে পড়েছেন তারা।

সোমবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা ২টার দিকে দক্ষিণ সুরমার চন্ডিপুলস্থ মেসার্স দিবারাত্রী সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়- একদিকে চন্ডিপুল থেকে হুমায়ুন রশিদ চত্বরের দিকে সিলেট-ঢাকা বাইপাস সড়কে প্রায় এক কিলোমিটার ও সিলেট-সুলতানপুর সড়কে আরও প্রায় এক কিলোমিটার গাড়ি দীর্ঘ লাইন। লাইনে মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার সহ অসংখ্য অটোরিকশা দাঁড়িয়ে আছে। অনেক গাড়িতে যাত্রীদের বসে থেকে ভোগান্তি পোহাতে দেখা যায়। এর মধ্যে বৃদ্ধ ও শিশুরাও রয়েছেন।


লাইনে দাঁড়ানো সুমন নামের এক অটোরিকশা চালক সিলেটভিউ-কে জানান, প্রায় প্রতিদিনই এভাবে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে গ্যাস নিতে হয়। শহরের প্রায় প্রতিটি পাম্পে এমনই চিত্র। কারণ- গ্যাস সংকট। অনেক পাম্পে মাসের ১৫ দিনের মধ্যেই বরাদ্দ শেষ হয়ে গিয়েছে। তাই সেগুলোতে এখন গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। আর যেগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোতে এমন দীর্ঘ লাইন। অনেক সময় বেলা গড়িয়ে গ্যাস বন্ধের সময় এসে গেলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না গ্যাস। রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয় গ্যাস নেয়ার জন্য। এছাড়াও অনেক সময় দেখা যায় পাম্পে গ্যাসের প্রেসার কম। আধা দিন দাঁড়িয়ে প্রেসারবিহীন গ্যাস ভরলে পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যায় না। এতে লোকসানে পড়তে হয়। 

মনির নামের আরেকজন চালক বলেন- দিন শেষে মালিককে চোখ বন্ধ করে ৫ থেকে ৬ শ টাকা দিয়ে দিতে হয়। কিন্তু গ্যাস ভরতেই দিনের অর্ধেক চলে যায়। একটি ট্রিপের বেশি দেওয়াই যায় না। এ অবস্থায় মালিককে সব টাকা দিয়ে দিলে নিজের আর থাকলো কী? সংসার কীভাবে চলবে আমাদের? কোনো কোনো দিন গ্যাস না পেয়ে গাড়ি বন্ধ রাখতে হয়।

অটোরিকশায় বসে থাকা মাহিন নামের এক যাত্রী বলেন, জরুরি কাজে ট্রেনে ঢাকা যাবো। ট্রেন ছাড়ার সময় বিকাল সাড়ে ৩টা। কিন্তু বেলা ২টায়ও এখানে গাড়িতে বসে আছি। চালক গ্যাস নেয়ার লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। কখন গ্যাস নিবে আর কখন আমাকে স্টেশনে পৌঁছে দিবে আল্লাহ জানেন। প্রয়োজনে আমাকে অন্য গাড়ি নিয়ে যেতে হবে। 

বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন এন্ড কনভার্সন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের সিলেট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক  রিয়াসাত আজিম হক (আদনান) সিলেটভিউ-কে জানান, সিলেটে পাম্পগুলোতে গ্যাস সংকট দীর্ঘ দিনের। আমরা জালালাবাদ গ্যাসকে পাম্পগুলোর লিমিট বাড়ানোর জন্য বলে আসছি। কিন্তু তারা লিমিট বাড়াচ্ছে না। সিলেটে যানবাহন বেড়েছে, একই সাথে বেড়েছে চাহিদা। কিন্তু তারপরও পাম্পগুলোতে লিমিট বাড়েনি। এর মধ্যে বছরের এই সময়ে সিলেটে পর্যটকদের আনাগোনা বেশি থাকে। গাড়িও চলাচল করে বেশি। তাই গ্যাসের চাহিদাও বেশি। এই অবস্থায় অনেক পাম্প মাসের ১৫ দিন যেতে না যেতেই গ্যাস সংকটে পড়ে। এর ফলে যেসব পাম্পে গ্যাস সরবরাহ করা হয় সেগুলোতে থাকে দীর্ঘ লাইন। 

সিলেটে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। 


সিলেটভিউ২৪ডটকম / এন.এ.পি. / ডি.আর