শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২১-২২ সেশনের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি কমিটির বিরুদ্ধে ভর্তি প্রক্রিয়ায় ‘অব্যবস্থাপনার’ অভিযোগ উঠেছে।

 


এ ব্যাপারে ভর্তি কমিটি বলছে, তারা কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সোমবার সন্ধ্যায় এই অব্যবস্থাপনার অভিযোগ করেন শাবিতে ভর্তি হতে আসা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকেরা।

 

ভর্তি কমিটি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি নিশ্চিত করেছেন এমন শিক্ষার্থীদেরকে চুড়ান্তভাবে ভর্তি নিশ্চিত করতে সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত ডেকেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে প্রথমদিন সোমবার বিজ্ঞান অনুষদ থেকে প্রাথমিক পর্যায়ে ভর্তি শিক্ষার্থীদের তালিকা থেকে ১ থেকে ১৬৫০ পর্যন্ত ডাকা হয়েছে। শাবির একাডেমিক ভবন ‘এ’ তে ভর্তি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে। এদিন সকাল ৯টাকা থেকে ভর্তি শুরু হয়।


এজন্য চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত করতে ঢাকা থেকে শাবিতে আসেন আলমগীর হোসেন নামের এক শিক্ষার্থী।

সোমবার সকাল ৯ টায় চূড়ান্ত ভর্তিচ্ছুদের সারিতে দাঁড়ায় সে। কিন্তু সন্ধ্যা সাড়ে ৫টায়ও চূড়ান্ত ভর্তির কাগজপত্র জমা দিতে পারেনি।

 

তার ভাষ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বিভাগে ভর্তি ছিল সে। কিন্তু পরিবারের চাপে তিনি শাহজালাল  বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। কিন্তু আট ঘন্টা ভর্তিচ্ছুদের সারিতে দাঁড়িয়েও সে চূড়ান্ত ভর্তি নিশ্চিত হতে পারেনি। আলমগীরের অভিযোগ, ‘ভর্তি হতে এসেছি। কিন্তু ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। এখানে সারির কোনো ঠিক নাই। সিরিয়াল যার ৮০০ সে ৪০০ সিরিয়ালের আগে কাগজপত্র জমা দিয়ে ভর্তি হয়ে যাচ্ছে। ডোপ টেস্টের পর যে যেমনে পারছে ভর্তি হচ্ছে। এতে ভর্তি কমিটি অব্যবস্থাপনা রয়েছে।’

 

আরেক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী মিনাল হোসেন বলেন, ‘‘এখানে খুব ধীর গতিতে কাজ চলছে। মনে হচ্ছে সিরিয়াল এগুচ্ছে না। তবে কেন এগুচ্ছে না সেটা আমরা জানি না।


 
সন্ধ্যায় চট্রগ্রাম থেকে আসা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী আশরাফুল বলেন, ‘‘আমরা চিন্তা করেছিলাম ভর্তির কাজ শেষ করে ট্রেন ধরবো সেজন্য আমরা আগে থেকেই ফিরতি টিকিট কেটে এসেছি। কিন্তু মনে হচ্ছে আমরা ভর্তির কাজ শেষ করে আজকে ফিরতে পারবো না।’’

 

অভিভাবক মো. নাজমুল ইসলাম নামের একজন কুমিল্লা থেকে মেয়েকে নিয়ে শাবি ক্যাম্পাসে সকাল ৮টায় এসেছেন।

তিনি বলেন, ‘বাসা দূরে হওয়ায় আমরা গতকাল রাতে সিলেট এসেছি। কিন্তু এখানের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে আমরা আজকেও বাড়ি ফিরতে পারবো না।’

 

আরেক অভিভাবক মো.আনোয়ার হোসেন। রংপুর থেকে সকালে মেয়েকে ভর্তি করতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন। ভর্তি কমিটির ভর্তি পদ্ধতি নিয়ে অদক্ষতার অভিযোগ তুলেন তিনি।

তিনি বলেন, শাবিপ্রবির মতো এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই অব্যবস্থপনা খুবই হতাশাজনক। কর্তৃপক্ষের উচিত এ ব্যাপারে মানসম্মত লোককে দায়িত্ব দেওয়া এবং পদ্ধতির উন্নয়ন দরকার।

আরেক অভিভাবক শামসুর রহমান বলেন, কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল কম করে শিক্ষার্থীদেরকে ডেকে ভর্তি করানো। নয়তো এরকম ভোগান্তি হতো না। তাছাড়া কাজগুলোকে ভাগ করে নিয়ে সুষ্ঠুভাব সম্পন্ন করা।


ভর্তি প্রক্রিয়ায় এমন অব্যবস্থাপনার বিষয়ে কয়েকজন কর্মকর্তা সূত্রে জানা যায়, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ভর্তি  প্রক্রিয়া শুরু হলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে ৪ঘন্টা ভর্তি প্রক্রিয়া বিলম্ব হয়।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সোমবার রাত পৌনে ৮টায় শাবির ভর্তি কমিটির সভাপতি অধ্যাপক রাশেদ তালুকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘ভর্তি কমিটি কাজ করে যাচ্ছে।’ এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।

 

পরবর্তীতে সরেজমিনে সোমবার সোয়া ৮টায় একাডেমিক ভবনে গিয়ে দেখা যায়, লম্বা সারিতে দাঁড়িয়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। সারিতে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীরা গভীর রাত পর্যন্ত ভর্তি প্রক্রিয়া গড়াবে বলে আশঙ্কা করছেন।

 

এদিকে ভর্তি কমিটি গত রবিবার জানিয়েছিলেন, আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে ১ হাজার ৬৫১ থেকে ৮ হাজার পর্যন্ত, বিকালে স্থাপত্য বিভাগে ১ থেকে ৩৪ পর্যন্ত ডাকা হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার সকালে মানবিক শাখায় ১ থেকে ১ হাজার ৩১৯ পর্যন্ত এবং বিকালে বাণিজ্য ১ থেকে ৫৫৯ পর্যন্ত ভর্তির জন্য ডাকা হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-১৮