সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত তিন মাসে এই উপজেলার বিভিন্ন এলাকার অন্তত ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পরতে হচ্ছে গ্রাহকদের। ট্রান্সফরমার চুরির সময় ঘটছে দূর্ঘটনাও। সর্বশেষ গত বুধবার (২৫ জনুয়ারি) ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুতায়িত হয়ে প্রাণ হারান উপজেলার ইসলামপুর পশ্চিম ইউনিয়নের ডাকঘর গ্রামের বতুল্লাহ মিয়ার ছেলে আরশ আলী ফকির (৩০) নামে এক যুবকের।

 


এলাকাবাসীদের অভিযোগ, পুলিশের জোরালো ভূমিকা না থাকায় কোম্পানীগঞ্জে বন্ধ হচ্ছে না ট্রান্সফরমার চুরি। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর নতুন ট্রান্সফরমার পেতে গ্রাহককে অর্ধেক টাকা এবং পল্লী বিদ্যুৎকে অর্ধেক টাকা পরিশোধ করতে হয়। এতে গ্রাহক এবং পল্লী বিদ্যুৎ দুই পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের অসাধু চক্র জড়িত থাকতে পারে। ট্রান্সফরমার চুরি হওয়ার পর নতুন সংযোগ পেতে বেগ পেতে হয়। সাধারণ গ্রাহক হলে পুরো এলাকার বাসিন্দারা চাঁদা তুলে ট্রান্সফরমারের জন্য টাকা উঠিয়ে থাকেন। সে টাকা পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তরের পর নতুন ট্রান্সফরমার পাওয়া যায়। এ সময় অন্ধকারেই কাটাতে হয় বাসিন্দাদের। ট্রান্সফরমার চুরির পাশাপাশি গবাদিপশু চুরির ঘটনাও সম্প্রতি কোম্পানীগঞ্জে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় একটি চক্র যুক্ত রয়েছে। গত বছরের নভেম্বর থেকে এবছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সর্বশেষ বুধবার রাতে উপজেলার পূর্ব ইসলামপুর ইউনিয়নের কলাবাড়ি গ্রামে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে এক যুবকের মৃত্যু হয়। পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানায়, চুরির সাথে জরিতদের খুঁজে বের করতে কাজ করছে তারা।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রকতী জানান, উপজেলায়া ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা বেড়েগেছে। ট্রান্সফরমার চুরির সাথে একটি চক্র যুক্ত রয়েছে। বুধবার ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে এক জন মারাও গেছেন। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। পুলিশ চক্রটিকে ধরতে তৎপর রয়েছে।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত-১১