শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনের প্রচারণার সময় এক প্যানেলের সভাপতি প্রার্থীকে অসদাচারণ ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে আরেকটি বিরোধী প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে।
সোমবার বিকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্বপালনকারি ডেপুটি রেজিস্ট্রার আবুল ফজল মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের কাছে ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদ’ প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরিদর্শক মো. তাজিম উদ্দিন, ওই প্যানেলের সদস্য প্রার্থী এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ দেন মমিনুল আশরাফুল প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী ড. খন্দকার মোহাম্মদ মমিনুল হক।
এই হুমকি ও অসদাচরণের পেছনে ‘মূল প্যানেল থেকে বিভক্ত হয়ে পৃথক প্যানেলে নির্বাচন’ বলেও অভিযোগ করছেন কর্মকর্তারা।
তবে হুমকি এবং অসদচারণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিরোধী প্রার্থী মো. তাজিম উদ্দিন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার জানান, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন।
নির্বাচন কমিশনার নুরুল আমিন জানান, শাবি অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে ৩১ জানুয়ারি সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এবার সমিতির ১১টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ২৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
তিন প্যানেলের মধ্যে রয়েছে, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদ, মোর্শেদ-সায়েম প্যানেল ও মমিনুল-আশরাফুল প্যানেল।
‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদ প্যানেল থেকে ১১টি পদে প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন; মোর্শেদ-সায়েম প্যানেল থেকে ১১টি পদে এবং মমিনুল-আশরাফুল প্যানেল থেকে চারটি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশেনের সদস্যরা জানান, এই এসোসিয়েশনে প্রতিবছর দুটি প্যানেল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আসছে। কিন্তু এবার আওয়ামীপন্থী প্যানেলে (‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদ) বিভক্ত দেখা দিয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, এতে নির্বাচনের প্রার্থীতা নিয়ে অন্তর্কোন্দল দেখা দেয় এই বিভক্ত প্যানেলে। পছন্দের সহকর্মীদেরকে নির্বাচনে প্রার্থীতা না দিয়ে একে অপরের বিরুদ্ধে ‘স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ’ তুলে বিভক্ত হয়ে পড়েন তারা।
‘এজন্য পৃথক প্যানেল থেকে একে অপরের বিরোধী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এই অংশের কর্মকর্তারা। আর এই বিভক্তিতে প্যানেলগুলো মনে করছেন তারা নির্বাচনে জয়ী হতে পারবেন না।’
এজন্য এমন ‘হুমকি এবং অভিযোগ’ উঠেছে বলে কর্মকর্তাদের ভাষ্য।
এদিকে নির্বাচন কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগপত্রে মমিনুল-আশরাফুল প্যানেল থেকে সভাপতি প্রার্থী ড. মমিনুল বলেন, ‘সোমবার আনুমানিক দুপুর সাড়ে ১২টায় একাডেমিক ভবন ‘বি’ এর পেছনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় অন্য প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী মো. তাজিম উদ্দিন ও তার প্যানেলের সদস্যদের সাথে নিয়ে আমার নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা প্রদান, হুমকি প্রদান ও অসদাচারণ করে।’
‘তবে কি কারণে কিংবা কি ধরণের বাধা বা হুমকি দেওয়া হয়েছে’ এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগপত্রে স্পষ্ট করেননি প্রার্থী মমিনুল।
তবে এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘হঠাৎ করে তারা (সভাপতি প্রার্থী তামিজ উদ্দিন ও সমর্থকরা) এসে আমাকে বলতেছে, ‘‘আপনি কি শুরু করছেন? আমরা এই ক্যাম্পাসে ভেঁসে আসি নাই বলে উচ্চ বাচ্য করেছে। এছাড়া বাজে মন্তব্য করেছে।’’
‘‘তারা বলেছে, ‘আমরা কিন্তু আপনাকে সম্মান করি আবার খারাপও হতে পারি।’ এখানে খারাপ হওয়া মানেই তো হুমকি দেওয়া।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘আমি তাদের বলেছি, ‘প্রচারনায় বাঁধা দিও না। তোমরা তোমাদের কাজ করো আমরা আমাদের কাজ করি।’’
এমন হুমকির মূল কারণ হিসেবে ‘বিভক্ত হয়ে প্যানেল দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ’ বলে তার অভিযোগ।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি প্রার্থী মো. তাজিম উদ্দিন। তার ভাষ্য, ‘‘আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ ভিত্তিহীন, মিথ্যা বানোয়াট ও সাজানো। নির্বাচনে আমাদের পরাজিত করার জন্য ভুল তথ্য প্রচার করেছেন তিনি (প্রার্থী মমিনুল)। আমি তার নির্বাচনী প্রচারনায় বাধা দেইনি। কিংবা কোনো ধরনের হুমকি দেইনি।’’
তিনি বলেন, ‘‘তাকে আমরা এটাই অনুরোধ করেছি যাতে আমাদের ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত থাকে। এটা আমাদের পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন। কোনো ধরণের বিভ্রান্ত তথ্য ছড়িয়ে যাতে নির্বাচন অসুন্দর না করেন।’’
মূল প্যানেলে বিভক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘‘বিএনপি-জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তারা (মমিনুল- আশরাফুল প্যানেল) আমাদের থেকে আলাদা হয়ে নির্বাচন করছেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জামায়াতের এজেন্ট হিসেবে কাজ করে আসছেন।
‘‘বিএনপি জামায়াতপন্থী প্যানেলকে বিজয়ী করা ও আমাদের প্যানেলকে পরাজিত করার লক্ষ্যেই তারা বিভক্ত হয়েছেন। আগে গোপনে কাজ করলেও এখন তারা প্রকাশ্যে এ কাজ করছেন।’’
এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দেখতেছি। সবকিছু ঠিকঠাক আছে।’
এখানে নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘’এ ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় আসে নাই।’’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/এসডি-১৬




