করোনার সংক্রমণ প্রতিরোধে সারা দেশে টিকা কেন্দ্রগুলোতে গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে করোনা টিকার চতুর্থ ডোজ দেওয়া শুরু হয়। যা এখনো চলছে। করোনার চতুর্থ ডোজের টিকা ৫টি ক্যাটাগরিতে আগে ষাটোর্ধ্ব মানুষকে প্রধান্য দেয়া হবে বলে জানানো হয়। সিলেট বিভাগে এখন পর্যন্ত টিকার ৪র্থ ডোজ নিয়েছেন ৩৪ হাজারের কিছু বেশি মানুষ। যা ১ম ডোজ প্রাপ্তদের তুলনায় মাত্র ০.২৯ শতাংশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ৪র্থ ডোজ নেবার উপযোগী ৪ কোটি মানুষকে নির্ধারণ করে ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করে সরকার। ৫ ক্যাটাগরিতে দেয়া হবে এই ভ্যাকসিন। প্রথম ক্যাটাগরিতে রয়েছে ৬০ বছর এবং তদূর্ধ্বর বয়সী জনগোষ্ঠী। দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে দীর্ঘমেয়াদী রোগে আক্রান্ত ১৮ বছর এবং তদূর্ধ্ব বয়সী জনগোষ্ঠী। তৃতীয় ক্যাটাগরিতে রয়েছে স্বল্প রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন জনগোষ্ঠী। চতুর্থ ক্যাটাগরিতে পবে গর্ভবতী মহিলা এবং দুগ্ধদানকারী মা এবং সর্বশেষ পঞ্চম ক্যাটাগরিতে দেয়া হচ্ছে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের। তবে সিলেটে ৪র্থ ডোজ গ্রহণে মানুষের মধ্যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি। ২০ ডিসেম্বর ২০২২ সাল থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে টিকার ৪র্থ ডোজ নিয়েছেন ৩৪ হাজার ৪৫৬ জন। এরমধ্যে সিলেট মাহানগরীতে ২ হাজার ৫২১ জন, সিলেট জেলায় ১৫ হাজার ৩১০ জন, সুনামগঞ্জে ৫ হাজার ১৪২ জন, হবিগঞ্জে ৩ হাজার ২৬৮ জন ও মৌলভীবাজারে ১০ হাজার ৭৩৬ জন ৪র্থ ডোজ নিয়েছেন। শীঘ্রই ৪র্থ ডোজ পাওয়ার উপযোগীদের টিকা নিতে এসএমএস দেয়া সহ আরো কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, ৪র্থ ডোজ দেয়া শুরু হলেও করোনার প্রকোপ তেমন না থাকায় মানুষের মধ্যে আগ্রহ কম। এছাড়া বেশকিছু টেকনিক্যাল সমস্যাও রয়েছে। আমরা মানুষকে টিকার বিষয়ে আগ্রহ দিচ্ছি। প্রচারনাও চালাচ্ছি। আশা করছি ৪র্থ ডোজ গ্রহণকারীর সংখ্যা আরো বাড়বে।
প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে ২ টা পর্যন্ত সিলেট এম.এ.জি. ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশন ভবন এই দুই জায়গায় টিকা দেয়া হচ্ছে বলে জানানা তিনি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় পরিচালক ডা. হিমাংশু লাল রায় জানান, এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৪৫৬ জন ৪র্থ ডোজের টিকা নিয়েছেন। যা অনেক কম। মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাবে এমনটি হচ্ছে। চীনে করোনা বেড়ে যাচ্ছে। যার ফলে তার হিমশিম খাচ্ছে। বাংলাদেশে এমনটি হলে সামলানো কঠিন হয়ে যাবে। আমরা টিকা কার্যক্রাম চালিয়ে যাচ্ছি। সবাইকে সচেতন করছি। ক্যাম্পেইন চালানো হবে। আমাদের কিছু টেকনিক্যাল সমস্যাও রয়েছে। ওয়েবসাইট এখানো পুরোপুরি সক্রিয় না। তাই আমরা সবাইকে এসএমএস দিতে পারছি না। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এটি ঠিক হয়ে যাবে, খুব শিঘ্রই সবাইকে এসএমএস দেয়া হবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ নাজাত-০৫




