সিলেটি নাটকের অভিনেত্রী ও টিকটকার তরুণী সনিয়া বেগমের (২০) লাশ সোমবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টায় দাফন করা হয়েছে। মহানগরের মানিক পীর টিলায় লাশটি দাফন করেন স্বজনরা।
এর আগে ময়না তদন্ত শেষে সোমবার বিকালে সনিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।
রবিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সিলেট মহানগরের শেখঘাট খুলিয়াটুলা আবাসিক এলাকার নীলিমা-১৪ নম্বর বাসা থেকে সনিয়ার গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার কলাছড়া গ্রামের বিল্লাল আহমদের মেয়ে ও দক্ষিণ সুরমার নুরজাহান মেমোরিয়াল মহিলা ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী। তিনি মা ও সৎ বাবার সঙ্গে ওই বাসার ৪র্থ তলায় থাকতেন। সনিয়া সিলেটের আঞ্চলিক ভাষার নাটকে অভিনয় করতেন।
এদিকে, সিলেটে দিনদুপুরে গলাকেটে এই হত্যাকাণ্ডে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। তবে এ ঘটনায় পুলিশ সন্দেহ করছে সনিয়ার মামাতো ভাই সজিব আহমদকে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সজিবকে আটকের চেষ্টা চলছে সিলেটভিউ-কে বলে জানিয়েছেন সিলেট মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ।
পারিবারিক সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের রাতে সনিয়াদের বাসায় রাত্রিযাপন করে তার মামাতো ভাই হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার নবীনগরের বাসিন্দা নবী হোসেনের ছেলে সজিব আহমদ। রবিবার সকালে সনিয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে নাস্তা করেন। এরপর পরিবারের অন্য সদস্যরা সনিয়ার সৎ বাবা সেলিম মিয়াকে দেখতে হাসপাতালে চলে যান। এর কিছুক্ষণ পর সজিবও বাসা থেকে বের হয়ে যায়।
দুপুর ১২টার দিকে সাড়াশব্দ না পেয়ে সনিয়ার ভাবি তাকে ডাকতে যান। রুমে ঢুকে তিনি সনিয়ার গলাকাটা লাশ বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে এবং রুমের ভেতর থেকে কাপড় কাটার একটি রক্তমাখা কাঁচি জব্দ করে।
সনিয়ার পরিবারের দাবি- এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সজিব জড়িত। পুলিশের সন্দেহর তিরও সজিবের দিকে। ঘটনার পর থেকে সজিব গা ঢাকা দেওয়ায় সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। সনিয়ার ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণলঙ্কারও খোয়া গেছে বলে দাবি করছেন পরিবারের সদস্যরা।
এ বিষয়ে সোমবার সন্ধ্যায় সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) উপ-কমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ সিলেটভিউ-কে জানান, হত্যাকাণ্ডের পর সজিব সিলেট থেকে পালিয়ে গেছে। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সিলেটের বাইরে তার অবস্থান সনাক্ত করা গেছে। তাকে গ্রেফতারে জোর প্রচেষ্টা চলছে। যে কোনো সময় গ্রেফতার হতে পারে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডালিম




