শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) র্যাগিংয়ের দায়ে সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের প্রত্যেকেই ছাত্রলীগকর্মী বলে জানা গেছে। তারা সকলেই শাবি শাখা ছাত্রলীগের বিভিন্ন পক্ষের নেতাদের অনুসারী হিসেবে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া তারা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।
জানা যায়, বিগত প্রায় দুই বছর ধরে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই এ বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর মধ্যেই বিভিন্ন পক্ষে বিভিক্ত হয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, বহিষ্কৃত ৫ জনের মধ্যে মো. আল আমিন, মো. পাপন হোসেন ও রিয়াজ হোসেন শাখা ছাত্রলীগের সাবেক পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এবং মো. খলিলুর রহমানের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অন্য দিকে বহিষ্কৃত আশিক হোসেন ছাত্রলীগের আরেকটি পক্ষের নেতা মেহেদী হাসান স্বাধীন এবং বহিষ্কৃত মো. আপন মিয়া ছাত্রলীগ নেতা সুমন মিয়ার অনুসারী।
র্যাগিংয়ের অভিযোগের বিষয়ে খলিলুর রহমান ও মেহেদী হাসান স্বাধীন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (২০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সৈয়দ মুজতবা আলী হলের ১১১ নম্বর কক্ষে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের র্যাগ দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এর পরদিন বুধবার সকালে ওই বিভাগের প্রধানের কাছে অভিযোগ দেন এক শিক্ষার্থী। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ৫ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি আরও উচ্চতর তদন্তের জন্য ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম জানান, তদন্ত কাজ শুরু হয়েছে।
এদিকে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছেলেদের আবাসিক হলগুলোতে প্রতিরাতেই পরিচিতির নামে র্যাগিং চলে। গভীর রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদেরকে মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। ইমিডিয়েট সিনিয়ররা হুমকি দেন এবং নবীনরা কথা না শুনলে মারতে এগিয়ে আসেন। তবে নবীন অনেক শিক্ষার্থী আর্থিকভাবে অসহায় হওয়ায় হল ছেড়ে মেসে উঠতে পারেননা। এতে কোনো উপায় না থাকায় তারা এসব মানসিক নির্যাতন সহ্য করেই হলে থাকেন। কিন্তু ভয়ে কেউ কিছু বলেনা।
এছাড়া গত সোমবার রাতে র্যাগিংয়ের শিকার ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীও ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন। তবে শাবি প্রশাসন এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
র্যাগিংয়ের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ‘জিরো-টলারেন্স’ নীতি অবলম্বন করেছে জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সিলেটভিউ’কে বলেন, যারা র্যাগিংয়ের সাথে জড়িত, সেই অভিযোগ প্রামাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। র্যাগিং বন্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/নোমান/নাজাত/পল্লব-২৮




