সিলেটের বিশ্বনাথে চাঁদা না পেয়ে এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও তার দোকান ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক শ্রমিক লীগ নেতা শাহজহান সিরাজ ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
রবিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে বিশ্বনাথ উপজেলার লামাকাজী বাজার এলাকায় ওই ব্যবসায়ীকে মারধর ও তার দোকান ভাঙচুর করা হয় বলে সিলটভিউকেকে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শতরূপতা এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহমদ।
হামলার শিকার ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শতরূপতা এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহমদ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। এরপর তিনি এ ঘটনায় বিশ্বনাথ থানায় শ্রমিক লীগ নেতাদের নামে মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণ করেনি।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শতরূপতা এন্টারপ্রাইজের মালিক জুয়েল আহমদ সিলটভিউকেকে বলেন, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ ২১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠান পালনের জন্য তার দলবল নিয়ে বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে চাঁদা আদায় করছিলেন। একপর্যায়ে তিনি আমার দোকোনে চাঁদা নেওয়ার জন্য আছেন। শাহজাহান আমার দোকানে এসে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করলে আমি এতো টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করি। এতে শাহজাহান ও তার লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে এলোপাথাড়ি মারধর ও আমার দোকান ভাঙচুর শুরু করেন। আমি কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে দোকান থেকে পালিয়ে বাজারের পাশে একটি বাড়িতে আশ্রয় নেই। খবর পেয়ে আমার স্বজনরা আমাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন’, বলেন তিনি।
এই ব্যবসায়ী আরও জানান, হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে আমি থানায় মামলা করতে যাই কিন্তু পুলিশ শ্রমিক লীগ নেতার নাম শুনে মামলা না নিয়ে বাজার কমিটির কাছে বিচার চাইতে বলে। এরপর আমি বাজার কমিটির কাছে বিচার প্রার্থী হই। কিন্তু আওয়ামী লীগ নেতাদের হয়রানির ভয়ে প্রভাবিত হয়ে বাজার কমিটির লোকজন বিচার করে দেয়নি। তাই বাধ্য হয়ে আমি গণমাধ্যমের কাছে ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরছি।
অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহান সিরাজ সিলটভিউকেকে টেলিফোনে বলেন, আমরা মারধর করিনি। ২১ ফেব্রুয়ারি পালনের জন্য টাকা চেয়েছি। এটা সত্য। তারা বিএনপি-জামায়াতের লোক। এই বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
সাংবাদিককে হুমকি : এদিকে অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহান সিরাজকে ফোন করার কিছুক্ষণ পর সিলেটভিউয়ের প্রতিবেদককে ফোন করে হুমকি দেন বিশ্বনাথ থানা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি নজরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, আপনি আমার শ্রমিক লীগ নেতা শাহজাহানকে ফোন দিয়েছেন কেন। ওরা (মারধরের শিকার ব্যবসায়ী) বিএনপি-জামায়াতের লোক, আপনার কাছে অভিযোগ দেওয়ার কে। এ বিষয়ে নিউজ করলে সমস্যা হবে।'
বিশ্বনাথ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




