বাংলাদেশের নীলনদ খ্যাত সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার সারী নদী। সারীর সৌন্দর্য্য দেখতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ঘুরতে আসেন এখানে। সম্প্রতি সোহেল বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অবৈধভাবে সারী নদীর কামরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম ঘাট হতে লালাখাল বিজিবি ঘাট পর্যন্ত নিয়ম বহিভূক্ত ভাবে বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তলন করে আসছে। গত একমাস ধরে পাথর উত্তোলন হলেও নিরব সংশ্লিষ্ট প্রশাসন। 

 


সরে জমিনে গিয়ে, দেখাযায় সোহেল বিল্ডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ অবৈধ ভাবে সারী নদীর কামরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিম ঘাট হতে লালাখাল বিজিবি ঘাট পর্যন্ত ১৮টি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বোমা মেশিন ব্যবহার করে ১৫০ ফিট গভীর হতে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। 

স্থানীয় বাসিন্ধারা বারকী শ্রমিক নুর মিয়া, হোসেন আহমদ, রিয়াজ উদ্দিন, জমির উদ্দিন, আব্দুস সোবহান, মো. জাকারিয়া, আব্দুর রহমান, নজির আহমদ, মাহমুদ আলী, রুহেল আহমদ সহ প্রায় শতাধিক শ্রমিক প্রতিবাদ করে এবং উপজেলা প্রশাসনের নিকট বোমা মেশিন বন্ধে জোর দাবি জানায়। তারা আরও বলেন, জেলা প্রশাসন কর্তৃক সারী নদীকে তিনটি ভাবে বিভক্ত করে সারী-১ “সারীঘাট ব্রিজ হতে নীচের অংশ” সারী-২ “সারীঘাট ব্রিজ হতে লালাখাল খেয়া ঘাট পর্যন্ত” সারী-৩ “খেয়াঘাট হতে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত” তিনটি ভাবে বিভক্ত করা হয়। সারী-৩ মামলা ভূক্ত থাকার কারনে এই অংশটি বাকী রেখে সারী-১ এবং সারী-২ বালু মহাল ইজারা প্রদান করা।

অপরদিকে সোহেল বিল্ডার্স এর প্রেপাইটার সোহেল তাজ চারিকাটা ইউনিয়ন পরিষদ হতে ভাসানী ট্যাক্স আদায়ের ইজারানেন। পরবর্তীতে সোহেল তাজ নানাভাবে প্রকৃত তথ্য গোপন রেখে আদালতের মাধ্যমে রিট পিটিশন দাখিল করে সারী-৩ এর বালু মহালের ইজারা নেন। ইজারার শর্ত মতে মেনুয়েল পদ্ধতীতে বালু আহরন করার কথা থাকলেও তা তিনি অমান্য করে যন্ত্র দানব বোমা মেশিন ব্যবহার করে বালু উত্তোলন শুরু করেন। 

এদিকে বোমা মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনে বাঁধা দেয় স্থানীয় বালু পাথর আহরণকারী বারকি শ্রমিকরা। সোহেল বিল্ডাস প্রতিবাদের মুখে বোমা মেশিন সরিয়ে নিয়ে মেনুয়েল পদ্ধতীতে বালু ও পাথর উত্তোলন শুরু করে। 
গত ১ মাস হতে সোহেল বিল্ডার্স প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় পুনরায় সারী নদীর কামরাঙ্গী স্কুল ঘাট হতে খোয়া ঘাট পর্যন্ত ৯টি বোমা মেশিন এবং খেয়াঘাট হতে বিজিবি ক্যাম্পের সম্মুখ পর্যন্ত আরও ৯টি বোমা মেশিন মোট ১৮ বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলন শুরু করে। যার ফলে নদীর পানি ঘোলা হচ্ছে, নদীর জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে। সর্বপরি দূর দূরান্ত হতে আসার পর্যটক বিমুখ হচ্ছে। নীল নদ খ্যাত সারী হারাচ্ছে তার সৌন্দর্য্য। এতে কর্মহীন হয়ে পড়ছে জৈন্তাপুর উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার বারকী শ্রমিক। এছাড়া বন্যায় নদীর দুই তীর ভাঙ্গনের কবলে পড়বে। দ্রুত সময়ের মধ্যে বোমা মেশিন বন্দ করার জোর দাবী সচেতন মহল।

বোমা মেশিন স্থাপনের অনুমোদন আছে কি না? জানতে সোহেল বিল্ডার্স এর প্রোপাইটার সোহেল তাজ সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যান, দীর্ঘ অপেক্ষরপর তিনি আর আসেননি। এছাড়া একাধিক বার তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একপর্যায় ফোন বন্ধ করে দেন তিনি।
 

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিলেট বিভাগীয় সমন্বয় শাহ শাহেদা জানান, সারী নদীর ঐহিত্য বিশ্ব জুড়ে রয়েছে। এছাড়া সারী নদীর বালুমহাল দীর্ঘ দিন বন্দ ছিল। আদালতে ভূল তথ্য উপস্থাপন করে নদীর সৌন্দর্য্য বিনষ্ট করা, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করা, বোমা মেশিন পরিচালনার ফলে নদীর স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। অবিলম্বে বোমা মেশিন বন্দের জন্য জেলা প্রশাসনের ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করছি। 

১৯ বিজিবি লালাখাল ক্যাম্পোর কমান্ডার মকবুল হোসেন বলেন, বোমা মেশিনের অতিরিক্ত কম্পনের ফলে ক্যাম্প ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। বিষয়টি ১৩ মার্চ উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বৈঠকে উত্তাপন করি। কিন্তু ফিরে এসে দেখি বোমা মেশিন চলছে। বোমা মেশিন বন্দ না করা হলে সরকারি কয়েক কোটি টাকা মূল্যের ক্যাম্পটি সারীর বুকে বিলিন হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-বশিরুল ইসলাম বলেন, বোমা মেশিন ব্যবহার করে পাথর উত্তোলনের বিষয়টি শুনেছি। উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচানা করে আগামী শুক্রবার এলাকাবাসী ও ইজারাদারকে আলোচনা করে বোমা মেশিন বন্দের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ নাজাত