মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে ৫৪ টি করাত কল। এর মধ্যে পরিবেশ ও বন বিভাগের ছাড়পত্র এবং লাইসেন্স ছাড়াই সরকারি স্কুল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের আশেপাশে যত্রতত্র স্থাপন করা হয়েছে ১৪টি অবৈধ করাতকল।
 

মিল মালিকদের প্রভাব এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে গড়ে উঠেছে এসব লাইসেন্স বিহীন ‘স’মিল। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ, ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। অপরদিকে সরকার হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
 


সরেজমিনে দেখা যায়, হাজীপুর ইউনিয়নের পীরেরবাজারের আব্দুস সালামের ’স‘মিলসহ বিভিন্ন স্থানে গড়ে উঠেছে এসব অবৈধ করাত কল। কোনোটি ভাঙা টিনের ঘরে, কোনোটির আবার নেই ছাউনি। নেই কোনো দুর্ঘটনার প্রতিরোধের ব্যবস্থাও। অরক্ষিত পরিবেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাঠ শ্রমিকরা এসব মিলে কাজ করছেন। এসব 'স' মিল মালিকদের নিকট থেকে গোপনে মাসোহারা নেওয়া হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। যার কারণে অবৈধ জেনেও এদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
 

করাত-কল (লাইসেন্স) বিধিমালা-২০১২ আইনে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, কোন ব্যক্তি লাইসেন্স ব্যতীত করাত-কল স্থাপন বা পরিচালনা করতে পারবেন না। এরপর সরকারি নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে পীরেরবাজার এলাকার বালিয়াটিলা গ্রামে আব্দুস সালাম ও বিলেরপার গ্রামে তজমুল আলীর বাড়ীতে অবৈধ করাতকল স্থাপন করা হয়েছে। এসব করাতকলের লাকড়ী পার্শবর্তী চা বাগান থেকে আনা গাছের খন্ড রাস্তার পাশে রাখায় রাস্তায় চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়ে নানা দুর্ঘটনাও ঘটছে।
 

এছাড়াও হাজীপুর ইউনিয়নের নতুন করাতকল স্থাপনের আপত্তি জানিয়ে ময়না মিয়া, সুধীর সূত্রধর, আব্দুল কুদ্দুছ, নিতাই মালাকার, মো. সুনু মিয়া, মোক্তা মিয়াসহ ভাঙ্গার পার এলাকার লোকজন সহকারী বন সংরক্ষক(এসিএফ) ও পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বরারব এক লিখিত আবেদন করেন।
 

তাদের অভিযযোগ সূত্রে জানা যায়, পার্শবর্তী ইউনিয়ন শরীফপুর এলাকার আবু তাহের এর ছেলে মাহবুব আহমদ স্থানীয় মৌজায় ৫৩৪ নং দাগে একটি করাতকল স্থাপনের আবেদন করেন। উলেখ্য দাগের পাশে একটি দেবালয় ও একটি মসজিদসহ চার পাশে ঘনবসতী ঘরবাড়ী রয়েছে। এই স্থানে করাতকল বসালে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া, মসজদি ও দেবালয়ে উপাশনায় বিগ্ন ঘটবে। এখানে নতুন কোন করাতকল স্থাপন না করার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের জোর দাবি জানান তারা।
 

বন বিভাগ কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন বলেন, এ উপজেলায় ৫৪টি করাত কলের মধ্যে ১৪টি অবৈধ ও ১৩টি রোল প্লেনিং। এর মধ্যে হাজীপুর ইউনিয়নে ৯টি যার মধ্যে মাত্র ৫/৬টির লাইসেন্স থাকলেও বাকিগুলো রয়েছে লাইসেন্স বিহীন।
 

কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান খোন্দকার বলেন, আইন শৃঙ্খলা মিটিংয়ে আলোচনা করা হবে। পাশাপাশি বনবিভাগারে কাছ থেকে তালিকা এনে অবৈধ করাতকলের মালিকদের আইনের আওতায় এনে অবৈধ করাতকল বন্ধ করে দেয়া হবে। বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. মারুপ হোসেন বলেন, অবৈধভাবে করাতকল স্থাপনের কোন কোন সুযোগ নেই। পাশাপাশি কোন করাতকল স্থাপনে স্থানীয় লোকজনের আপত্তি থাকলে সেখানে স্থাপন করা যাবে না। আমি নতুন এসেছি। বিষয়টি খোজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/জয়নাল/এসডি-০৩