অরুণাচল প্রদেশের ১১টি জায়গার নাম পাল্টে দিল চীন। কয়েক দশক ধরেই অরুণাচল প্রদেশকে দক্ষিণ তিব্বত বলে দাবি করে বেইজিং। নয়াদিল্লিও বরাবর স্পষ্টভাবে জানিয়ে আসছে যে অরুণাচল ভারতের অবিচ্ছেদ্য এবং অখণ্ড অংশ। অরুণাচলের পার্বত্য এলাকা থেকে নদী, বসতি অঞ্চল, সবই নিজেদের বলে দাবি করে চীন।
 

অরুণাচল সীমান্তে দুই দেশের উত্তেজনা চলছে অনেক দিন ধরে। এবার সেখানকার ১১টি অঞ্চলের নাম বদলে দিয়েছে চীন। অরুণাচলের বিস্তীর্ণ এলাকাকে একত্রে চীন ঝাংনান অর্থাৎ দক্ষিণ তিব্বত বলে উল্লেখ করেছে।


রোববার চীনের নগর বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, মন্ত্রিসভার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে অরুণাচল প্রদেশের (চীন বিজ্ঞপ্তিতে দক্ষিণ তিব্বত বলে উল্লেখ করেছে) কয়েকটি ভৌগোলিক এলাকার নামকরণ করা হয়েছে। অর্থাৎ এবার থেকে চিনা মানচিত্রে অরুণাচলের ওই জায়গাগুলোর নাম মান্দারিনের হরফে লেখা থাকবে।  দুটি সমতল এলাকা, দুটি আবাসিক এলাকা, পাঁচটি পর্বতশৃঙ্গ এবং দুটি নদীর নামকরণ করেছে চীন।

অরুণাচলের নাম ঘোষণাকে চীনের পাল্টা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা হিসেবেই দেখছে ভারতের কূটনৈতিক মহল। যদিও বেইজিং সরাসরি সে কথা স্বীকার করেনি। 

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লু কাং দাবি করেছেন , চীনের মন্ত্রিসভা যে নতুন নিয়মাবলি তৈরি করেছে , তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই ১১টি জায়গার নাম নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। কাজেই বিষয়টি আইনসঙ্গত। ওই নামগুলো নতুন করে চাপিয়ে দেওয়াও নয়। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে মুখে মুখে ওই নাম প্রচলিত ছিল। এবার সেগুলোকেই সরকারিভাবে স্বীকৃত দেওয়া হলো।

অরুণাচল সীমান্তে গ্রামও তৈরি করছে চীন। সীমান্ত বরাবর চার জায়গায় সামরিক পরিকাঠামো তৈরি করতে দেখা গেছে দেশটিকে। পূর্ব লাদাখের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখার মতোই অরুণাচলের সীমান্ত নিয়েই দুই দেশের বাহিনীর বিবাদ অনেক পুরনো। ১৯৬২ সালে ইন্দো-চীন যুদ্ধ বাধে অরুণাচলকে কেন্দ্র করে।

সূত্র: দ্য ওয়াল

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/পল্লব-১৯