গ্যাসের অপচয় রোধ, সাশ্রয়ী দক্ষ ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতের লক্ষ্যে সিলেট সিটি করপোরেশন ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সংযোগকৃত আবাসিক গ্রাহকদের প্রি-পেইড গ্যাস মিটার স্থাপন শুরু করতে যাচ্ছে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। প্রিপেইড মিটার বসানোর পর গ্যাসের অপচয় কমবে। সাশ্রয় হবে ৩০-৪০ ভাগ গ্যাস। পাশাপাশি গ্রাহকদের আগের তুলনায় কম বিলও পরিশোধ করতে হবে- বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

জালালাবাদ গ্যাস সূত্র জানায়, বর্তমানে কোম্পানির গ্রাহক সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ৪৫৯। এর মধ্যে আবাসিক বা গৃহস্থালির কাজে সংযোগ (চুলা) রয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৭৬৪টি। বাকি ১ হাজার ৬৮৪টি গ্রাহক সংযোগ রয়েছে বিভিন্ন শিল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট, চা বাগান ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে সিলেট মহানগরী ও সদর উপজেলায় রয়েছে প্রায় ৯৫ হাজার সংযোগ। প্রথম পর্যায়ে এর মধ্য থেকে ৫০ হাজার সংযোগ প্রিপেইড মিটারে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঈদের আগে সিলেট নগরীতে আমরা প্রিপেইড মিটারের সংযোগ স্থাপন শুরু করা হবে। এ জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে। চীন থেকে প্রিপেইড মিটারগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে রিসিভ করাও হয়ে গেছে।


কন্টাক্টলেস স্মার্ট কার্ডভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তির এসব মিটার জালালাবাদ গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিনামূল্যে দেওয়া হবে বলে জানা যায়।

এ ব্যবস্থায় যতটুকু গ্যাস ব্যবহার হবে ততটুকুরই বিল দিতে হবে। পুরো মাস চুলা বা গ্যাস ব্যবহার বন্ধ থাকলে বিল আসবে না।
 
১৩৬ কোটি টাকা ব্যয়ের প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের প্রথম ধাপ এপ্রিলের ১৫ তারিখ শুরু হবে। প্রথম ধাপে নগরীর হাউজিং এস্টেট, দরগামহল্লা, সুবিদবাজার, মিয়া ফাজিল চিশত, পাঠানটুলা, বাগবাড়ি, লামাবাজার, দাড়িয়াপাড়া, শেখঘাট, জিন্দাবাজার, সোবহানিঘাট, বড়বাজার, শাহী ইদগাহ, বালুচর, শিবগঞ্জ, শাহজালাল উপশহর ও মেজরটিলাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার আবাসিক গ্রাহকদের এই সংযোগ দেওয়া হবে।

পর্যায়ক্রমে বাকি গ্রাহকদেরও প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।

জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেড (জেজিটিডিএসএল) সূ্ত্রে জান যায়, সিলেটে গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকদের প্রিপেইড মিটারের আওতায় আনতে আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে দরপত্র আহ্বানের পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে চীনের দুটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে জেজিটিডিএসএল।

সেগুলো হচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠান দ্য কনসোর্টিয়াম অব জেনারেল মিটারিং টেকনোলজি (সাংহাই) লিমিটেড ও হেক্সিং ইলেকট্রিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড।

প্রকল্পের কাজ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য শুরু হয় জরিপ কাজ। এর মধ্যে নগরীর ৫০ হাজার গ্যাসের চুলা বসানোর জরিপ শেষ হয়েছে।

তবে এ প্রকল্পের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুযায়ী গত বছরের নভেম্বরে এ প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে ডিপিপি সংশোধন করে গত বছরের মার্চে দরপত্র আহ্বান করে জালালাবাদ গ্যাস। এতে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ২০২৩ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

জালালাবাদ গ্যাসের প্রিপেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের পরিচালক লিটন নন্দী জানান, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারে গ্যাসের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে এবং গ্রাহকেরা অতিরিক্ত বিল দেওয়ার হাত থেকে রেহাই পাবেন।  নিকটস্থ রিচার্জ পয়েন্ট থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ক্রেডিট কিনে প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা যাবে। রিচার্জ শেষ হলেও এতে ইমার্জেন্সি ব্যালেন্সের সুবিধা থাকবে।

লিটন নন্দী আরো জানান, জালালাবাদ গ্যাসের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের বিনামূল্যে মিটার লাগিয়ে দেয়া হবে। মিটারের মূল্য মাসিক ভাড়া হিসেবে সমন্বয় করা হবে। প্রিপেইড মিটারের মতো বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাহক গ্যাসের বিল পরিশোধ করতে পারবেন। হঠাৎ ক্রেডিট শেষ হয়ে গেলে ইমার্জেন্সি রিচার্জেরও সুযোগ থাকবে প্রিপেইড মিটারে। এতে গ্যাসের সাশ্রয় হবে এবং গ্রাহকদের বিলও কম আসবে। সাশ্রয় হওয়া গ্যাস শিল্প ও বাণিজ্যখাতে ব্যবহারও করা যাবে।

সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত / ডি.আর