গ্রামীণ বিয়ে-পালা-পার্বন কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে এক সময়ে জনপ্রিয় ছিল ধামাইল গান। সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আর ফেসবুক, ইউটিউবে ভিউ বাড়াতে ধামাইল গানের চরম বিকৃতি হচ্ছে। আর এই ধামাই গানের সঠিক বিস্তার,সংরক্ষন, চর্চা ও বিকাশে কাজ করে যাচ্ছে তরুণ ধামাইল সংগঠক পিকলু সরকার।

তরুণ  ধামাইল সংগঠক পিকলু সরকার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সজনপুর গ্রামের নগেন্দ্র সরকারের ছেলে। পিকলু এম সি কলেজ সিলেট থেকে  সমাজবিজ্ঞানে অনার্স,মাস্টার্স করেছে।



জানা যায়,দীর্ঘ ৯বছর ধরে ভাটির ঐতিহ্য ধামাইল নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে পিকলু । ধামাইলের গতি তরান্বিত করতেই সে ছুটে চলেছে ভাটির  প্রত্যন্ত অঞ্চলের গ্রাম গুলোতে।
গঠন করেছে দিরাই রফিনগর ইউনিয়নের সজনপুর গ্রামে পারিজাত ধামাইল সংঘ,দলনেতা বিউটি সরকার।


দিরাই রাজানগর ইউনিয়নের রনারচর গ্রামে প্রজাপতি ধামাইল সংঘ,দলনেতা নিপা তালুকদার। জামালগঞ্জ ফেনারবাক ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের সুরধ্বনি ধামাইল সংঘ,দলনেতা চায়না সরকার। দিরাই রফিনগর ইউনিয়নের কিত্তাগাঁওয়ে রাধারমণ ধামাইল সংঘ,দলনেতা সম্পা তালুকদার ।

ভাটির গ্রাম গুলোতে হাওড়াঞ্চলের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতায় সুদীর্ঘকাল ধরে চর্চিত হয়ে আসা এক অত্যাবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হচ্ছে ‘ধামাইল গান’। আর এই ধামাইল গান ছড়িয়ে দিতে পিকলু প্রায় সময় আয়োজন করছে ধামাইল গানের আসর। ধামাইল গান সংগ্রহ, সংরক্ষন, চর্চা ও বিকাশে ধামাইল গানের দল গুলোকে সাথে নিয়ে সে কাজ করে যাচ্ছে।

সম্প্রতি ধামাইল গান সংগ্রহ, সংরক্ষন, চর্চা ও বিকাশ মনোনয়নে ১৬-০৪-২৩ ইং তারিখে বাংলাদেশ শিল্পকলা অনুমোদিত " ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ বাংলাদেশ "আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদ সংগীত গুরু এড:দেবদাস চৌধুরী রঞ্জন কে আহবায়ক  ও ধামাইল সংগঠক পিকলু সরকারকে সদস্য সচিব করে কমিটি অনুমোদন হয়৷

পিকলু সরকার বলেন, আমরা খুব শিগ্রই ইউনেস্কোর স্বীকৃতি আশা করছি কারণ আমাদের একজন দেবদাস চৌধুরী আছেন, আমাদের একজন চিনু চক্রবর্তী আছেন। আমাদের পাশে আছেন শ্রদ্ধেয় গুরুজনেরা। এবং সেই সাথে প্রতিটা মেয়ে যেন ধামাইল গানে আসীন হয় আমরা তা নিশ্চিত করব৷ ধামাইল গান ধামাইলের মতো থাকবে, নৃত্য করতে চাইলে তার একটা সীমানা থাকবে। কিন্তু পুরাতন ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমাদের এগিয়ে থাকতে হবে৷

নবগঠিত ধামাইল উন্নয়ন পরিষদ বাংলাদেশের আহবায়ক দেবদাস চৌধুরী বলেন,পিকলু  একজন তরুণ সংগঠক। ভাটির প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধামাইল সংগঠক হিসেবে সে অনেক আগ থেকে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন,আমাদের প্রধান লক্ষ্য পুরাতন ধামাইল গান সংগ্রহ, সংরক্ষন,চর্চা ও বিকাশ।ধামাইল যেন আধুনিকতার ছোঁয়ায় পুরাতন ছন্দ না হারায়। সৃজনকর্তা রাধারমণের বিশাল সৃজনকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।আমরা প্রবীণ মুরুব্বী যারা আছেন, মা কাকী, পিসি, যারা সব সময় ধামাইল গেয়ে থাকেন উনাদের থেকে সঠিক তথ্য খোঁজে বের করার চেষ্টা করব।ধামাইল যেন ভাটির ঘরে ঘরে বিকশিত হয় সেটা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইআ-০৭