বন্যায় ভাসছে লোকালয়। কোথাও ডুবে আছে সড়ক। আবার কোথাও ভেঙে পড়েছে ঘরবাড়ি। দুর্যোগপূর্ণ এই অবস্থায় আজ বুধবার (৫ জুন) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সীমান্ত জনপদ সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাটে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন।


চলতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এমনিতেই সারাদেশে কাঙ্খিত ভোটার উপস্থিতি হচ্ছে না। এর মধ্যে বন্যা পরিস্থিতির মধ্যে সিলেটের দুই উপজেলায় কতটুকু ভোটার উপস্থিতি হবে এ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। একজন প্রার্থী নির্বাচন পেছানোর আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তা আমলে নেয়নি। বন্যা পরিস্থিতির কারণে দুই উপজেলার ৯টি ভোটকেন্দ্র পরিবর্তন করেছে নির্বাচন কমিশন।



সিলেটের ১৩টি উপজেলার মধ্যে বর্তমানে ১০টিতে বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কয়েকটি উপজেলা থেকে বন্যার পানি প্রায় নেমে গেলেও জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলার নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে। জেলা প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী জকিগঞ্জ উপজেলার ২ লাখ ৬৭ হাজার ৩০৯ জন মানুষের মধ্যে বন্যায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৬ হাজার ১৪৭ জন। চারশ’র উপরে লোকজন এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। আর কানাইঘাটের বাসিন্দা ৩ লাখ ১৭ হাজার ৫৭৪ জনের মধ্যে বন্যা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০ হাজার ৬১০ জন। গতকাল মঙ্গলবার থেকে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট ও কুশিয়ারার পানি আমলসীদ (জকিগঞ্জ) পয়েন্টে বৃদ্ধি পেলেও পূর্ব নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন করতে অনঢ় নির্বাচন কমিশন। দুই নদীর পানিই বর্তমানে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এই অবস্থায় দুই উপজেলায় ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।


নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, কানাইঘাট উপজেলায় ২ লাখ ৮ হাজার ৯৯৯ জন ভোটারের মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার ১১৫ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৬ হাজার ৭৮৪ জন নারী। জকিগঞ্জে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫১৩ জন ভোটারের মধ্যে ৯৯ হাজার ২২৫ জন পুরুষ ও ৯২ হাজার ২৮৮ জন নারী। বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় জকিগঞ্জের ৫টি ও কানাইঘাটের ৪টি কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে।


নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট উপজেলায় ২৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে জকিগঞ্জে চেয়ারম্যান পদে চারজন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া কানাইঘাট উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে সাতজন, ভাইস চেয়ারম্যন পদে চারজন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে দুজন নির্বাচন করছেন।


জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মরতুজা আহমদ জানান, তাঁর উপজেলার ৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩০টিতে এখনো বন্যার পানি আছে। উপজেলার দেড় শতাধিক গ্রামের মানুষ পানিবন্দি। এই অবস্থায় নির্বাচন পেছানোর জন্য তিনি সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফসানা তাসলিমের কাছে লিখিত আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তার আবেদন গ্রাহ্য হয়নি।


এ বিষয়ে ইউএনও আফসানা তাসলিম বলেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী সামনে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা আছে। তাই ভোট গ্রহণের বিষয়টি নির্দিষ্ট তারিখেই শেষ করতে হচ্ছে।


উল্লেখ্য, ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ও শেষ ধাপে আজ সিলেট বিভাগের ৭টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সেগুলো হলো- সিলেট জেলার জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট, সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ সদর ও মধ্যনগর এবং হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট ও মাধবপুর।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / শাদিআচৌ / ডি.আর/ এনএফ