সিলেটের বন্যা পরিস্থিতিতে রাসেল’স ভাইপার সাপ নিয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফেসবুকে এই বিষয়টি নিয়ে অনেকে নানাভাবে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছেন। অনেকে প্রচার করছেন যে সাপটি কামড় দিলে দ্রুত মানুষের মৃত্যু হয়। আবার অনেকে এ নিয়ে সচেতনতামূলক পোস্টও দিচ্ছেন।

 


সিলেটে দ্বিতীয় দফা বন্যায় এক সপ্তাহে সাপের কামড়ে ১২ জন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জন বিষহীন সাপের কামড়ে আক্রান্ত। তাদের চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর একজন বিষাক্ত কোবরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ রাসেল’স ভাইপার সাপের কামড়ে আক্রান্ত হন নি। এমন কি সিলেটে এই সাপ নেই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুন থেকে শনিবার (২২ জুন) পর্যন্ত ১২ জন রোগী বিভিন্ন প্রজাতির সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১১ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আর সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে একজনকে কোবরা সাপের কামড়ে গুরুতর আহতাবস্থায় ২০ তারিখে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রথমে তাকে আইসিউতে রাখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ।

 

অনেকে বলছেন, রাসেল'স ভাইপার খুব দ্রুত বংশ বিস্তার করে। ফলে সহসা বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এই সাপের আধিক্য মানুষের জন্য হুমকি তৈরি করবে। সিলেটের পানিবন্দি অনেকই আছেন এই সাপের আতঙ্কে।

 

সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্তী জানান, সিলেটে এখন পর্যন্ত রাসেল’স ভাইপার নেই। এটি দেশের উত্তরবঙ্গে রয়েছে। এই সাপটি সাধারণত পদ্মা অববাহিকতায় যেখানে ভারত থেকে সরাসরি পানি নামে সেখানে পাওয়া যায়। এখন পর্যন্ত এই বন্যা পরিস্থিতিতে ১২ জন রোগী আমাদের এখানে এসেছেন। ১১ জনকে চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অপর একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে আইসিউতে রাখা হয়েছিলো। তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তিনি অনেকটাই সুস্থ।

 

উপ-পরিচালক আরও জানান, রাসেল’স ভাইপার নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এর প্রতিষেধক রয়েছে। অনেকেই মনে করেন এই সাপ কামড় দিলে সাথে সাথে মানুষ মারা যায়। এই সাপে কামড়ালে রোগীকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে গেলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম / নাজাত