৫ আগস্টের আগে বিএনপির পাশাপাশি ইসলামি দলগুলোও সরকারবিরোধী ইস্যুতে ছিলো কোণঠাসা। নিজেদের মধ্যেও ছিল বিভেদ। ৫ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর অনেকটা কমে এসেছে ইসলামী দলগুলোর মধ্যকার পারস্পারিক বিভক্তি। রাজপথে ‘গা ঝাড়া’ দিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনগুলো।

 


ইতোমধ্যে ইসলামি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দলীয় বড় কর্মসূচি পালন করেছে। সর্বশেষ শনিবার (২৩ নভেম্বর) বিকালে সিলেট রেজিস্ট্রি মাঠে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট জেলা উত্তর দক্ষিণ ও মহানগর শাখার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণসমাবেশ।


সিলেটে জমিয়তের আগে শোডাউন করেছে খেলাফত মজলিসের দুই অংশ। সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে ‘শুকরিয়া সমাবেশ’ প্রথম দলীয় বড় কর্মসূচি পালন করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলের মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকসহ কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটের সমাবেশে যোগদান করেন।


একইসঙ্গে মাওলানা মামুনুল হক সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জ জেলাও সফর করেন।


দলটির সিলেট মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা এমরান আলম বলেন- আমাদের দলের নেতাকর্মীরা গত ১৫টি বছর চরমভাবে নির্যাতিত ছিলেন। অনেক চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে আমাদেরকে। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে সফর করে যাওয়ায় দল এখন আগের চেয়ে চাঙা, কার্যক্রমেও ফিরেছে গতি।


এদিকে গত মাসে সিলেটে বড় কর্মসূচি পালন করেছে খেলাফত মজলিসও। তারাও সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে সমাবেশ করেছে। আর এ সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতারা ছাড়াও দলের যোগদানকারী জনপ্রিয় বক্তা সিলেটের বাসিন্দা মাওলানা মুফতি আলী হাসান উসামা উপস্থিত ছিলেন। এ সমাবেশের অন্যতম আয়োজক ছিলেন সিলেটের সন্তান ও খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মো. মুনতাসির আলী।


জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা দিলওয়ার হোসেন বলেন- আমাদের দলের অবস্থান সিলেটে সবসময়ই শক্তিশালী। খেলাফত মজলিসের ছাত্র সংগঠন ও মূল দলের নেতাকর্মীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সময় রাজপথে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতারা সিলেটে সফর করে যাওয়ার পর তৃণমূলে কার্যক্রম আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হয়েছে।


আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সিলেটে বড় সমাবেশ করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও। চরমোনাই পীরের এ রাজনৈতিক দলের নেতাদের সিলেটে সুসংহত অবস্থান রয়েছে। ৫ আগস্টের আগেও দলটি সিলেটে রাজপথে নানা কর্মসূচি পালন করেছে। গত ১ অক্টোবর সিলেটে সিটি পয়েন্টে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তৃতা করেন দলের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহম্মদ ফয়জুল কারীম। তার সফরের পর নবউদ্যোমে সিলেটের নেতাকর্মীরা উপজেলা ও নগরের ওয়ার্ড পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম আরও বেগবান করেছেন।

 

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সিলেট মহানগরের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. রিয়াজুল ইসলাম রিয়াজ জানান- সিলেটে তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরেশোরে চলছে। দলের কার্যক্রম তৃণমূল পর্যন্ত ছড়িয়ে দিতে সংগঠনের জেলা ও নগরের নেতারা প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে চষে বেড়াচ্ছেন।

 

অপরদিকে, সিলেট থেকেই এক ছাতার নিচে আসার ‘সবকে’ উজ্জীবিত কওমি মাদারাসা-ঘরানার আলেম-উলামাদের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। নিজেদের মধ্যে বিভক্তির বিশ বছরের দূরত্ব সিলেট থেকেই ঘুচাতে যাচ্ছে ইসলামি এ দল।

 

২০০৪ সালে চার দলীয় জোট গঠনকে কেন্দ্র করে পূর্ব সিলেটের উলামাদের একাংশ জমিয়ত থেকে বের হয়ে ‘জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ’ নামের আলাদা সংগঠন করেছিলেন। এই বিশ বছরে রাজনীতিতে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। দুই জমিয়তের নেতারা ছিলেন আওয়ামী লীগ সরকারের দমন-পীড়নের শিকার। তবে ৫ আগস্ট প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর ফের তারা এক হওয়ার তাগিদ অনুভব করেছেন। এতে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন জমিয়তে উলামা ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট দক্ষিণের আমির মুফতি মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন নেতা।

 

তারা সাম্প্রতিক সময়ে ঘন ঘন উভয় অংশের মুরব্বিদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সর্বশেষ ১৩ নভেম্বর সিলেট মহানগরের শিবগঞ্জে অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আলীর বাসায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ-এর প্রথম সারির নেতৃবৃন্দের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়। এতে উভয় দলের শীর্ষ নেতারা এককাতারে শামিল হওয়ার ঘোষণা দেন এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের ইতি টানেন।

 

এরপরই যৌথভাবে সিলেটে গণসমাবেশ করার ডাক দেন তারা। এই আহ্বান বাস্তবায়নে শনিবার সিলেটের রেজিস্ট্রারি মাঠে গণসমাবেশটি সফল করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন দলটির সভাপতি মাওলানা শায়খ জিয়া উদ্দীন।

 

দলটির সিনিয়ির সহ-সভাপতি সিলেটের কৃতিসন্তান মাওলানা শামছুদ্দীন দুর্লভপুরী বলেন- এ দেশের মুসলমানদের ইমান আকিদা রক্ষা ও দেশবিরোধীসহ সকল বাতিলের মোকাবিলায় আমরা তথা জমিয়তে উলামা বাংলাদেশ মূল দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।


সিলেটভিউ২৪ডটকম / ডি.আর