ছয়টি থানা নিয়ে সিলেট মহানগরী। ৭৯.৫০ বর্গ কি:মি: আয়তনের এই মহানগরীতে রয়েছে ৪২টি ওয়ার্ড। মহানগরীর সমস্ত বাসা ও ভাড়াটিয়াদের তথ্য নিয়ে ‘জিনিয়া অ্যাপ’র মাধ্যমে ডিজিটাল ডাটাবেজ উদ্যোগ নেয়া হয়। একই সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে তারিখ নির্ধারণ করে দিলেও তা গতিহীন।


পুলিশের দেয়া সময়সীমা ৯দিন পেরিয়ে গেলেও তা কাজে আসছে না। অপরাধ নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি মহানগরীতে যাতে করে অপরাধীরা আবাস গড়তে না পারে এবং অপরাধ দমনের বিষয়টি সামনে রেখেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়। একই সাথে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে অপরাধীদের অপতৎপরতা রোধে মহানগরীর সকল নাগরিককে থানায় নির্ধারতি ফরমে তথ্য দাখিলের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে নির্দেশ দিলেও কাজ হচ্ছে না।



তবে অতীতে মহানগর পুলিশের নেয়া এই উদ্যোগটি ঝিমিয়ে পড়লে এবারও তা গতি পাচ্ছে না। অধিকাংশ সময় কোন তথ্য না থাকায় তদন্তেও বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।


সিলেট মহানগর পুলিশে কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী জানান, মহানগর পুলিশের ছয়টি থানার পূর্বের যে ভাড়াটিয়া তথ্য রয়েছে তা আর হালনাগাদ করা হয়নি। আমরা উদ্যোগ নিয়েছি অপরাধ দমন ও পুলিশি সেবা সহজ করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ‘জিনিয়া অ্যাপ’দিয়ে ডিজিটাল ডাটাবেজ করতে। মহানগর পুলিশের আওতাধীন এলাকাগুলোতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নও করা হবে। সেজন্য কাজ চলমান রয়েছে।


পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১৭ সালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার পাঁচতলা ভবন ‘আতিয়া মহল’ নামের একটি বাসার ফ্লাট পরিচয় গোপন রেখে ভাড়া নেয় একদল জঙ্গি। বাসাটির নিচতলায় জঙ্গিরা অবস্থান করছে, এমন তথ্যের ভিত্তিতে ২০১৭ সালের ২৪ মার্চ ভোররাতে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু করে পুলিশ। পুলিশ দফায় দফায় জঙ্গিদের আত্মসমপর্ণের আহ্বান জানালেও জঙ্গিরা তাতে সাড়া না দিয়ে ভেতর থেকে গুলি, বোমা ছোড়ে। সেই ঘটনায় থানায় তিনটি মামলাও হয়েছিল। পুলিশ, াব ও সোয়াট ব্যর্থ হওয়ার পর সেনারা অভিযানে নামেন। আতিয়া মহলের কয়েক শ গজের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে দুই দফা বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা।। এতে র‌্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের তৎকালীন প্রধান লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবুল কালাম আজাদ, দুই পুলিশ সদস্যসহ সাতজন নিহত হন। তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় স্বীকার করে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। জঙ্গিমুক্ত আতিয়া মহল থেকে এক নারীসহ চার জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে জানা যায়, চার জঙ্গিই আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। এই ঘটনার পর পরই ঢামাঢোল ও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়ে মহানগর পুলিশ ভাড়াটিয়া ও বাড়িওয়ালার তথ্য থানায় দাখিল করতে নির্দেশনা দিলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।


এদিকে সিলেট মহানগরীর নাগরিকদের সুরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনের লক্ষ্যে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি) সিটিজেন ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম চালু করে। মহানগর এলাকার বাড়িওয়ালা, ভাড়াটিয়া, গৃহকর্মী, ড্রাইভার, কেয়ারটেকার এবং মেস বা কলোনির বাসিন্দাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য ডিজিটাল ডাটাবেজে সংরক্ষণ করা হবে। এজন্য গত ৩০ নভেম্বরের মধ্যে।


মহানগরীর সকল নাগরিককে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মসনদ, ছবি, মোবাইল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। গত ২৯ অক্টোবর জনস্বার্থে এই আহ্বান জানিয়েছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী। পুলিশের এই উদ্যোগের মাধ্যমে মহানগর এলাকার নাগরিকদের হালনাগাদ তথ্য সহজে সংরক্ষণ করা যাবে, যা ভবিষ্যতে অপরাধ দমন ও তদন্ত কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি/এসডি-৩০