রাজনৈতিক নানা সমীকরণ আর নানা হিসেব-নিকেশের পর জমে উঠেছে সিলেট-২ আসনের নির্বাচনী আমেজ। ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে আইনী জটিলতা পড়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি ইলিয়াসপত্নী তাহসিনা রুশদির লুনা। পরে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াসের এই আসন থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করা হয় গণফোরামের মোকাব্বির খানকে এবং তিনি নির্বাচিত হন।
এবার যাতে আর রাজনৈতিক মাঠে পরাস্থ না হন সেজন্য বিএনপি সমর্থিত লুনা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তারই পুত্র ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবরার ইলিয়াস পৃথক মনোনয়ন দাখিল করেন। কোন কারণে একজনের মনোনয়ন বাতিল হলে অন্যজন প্রার্থী হবেন। আর দুজনের মনোনয়ন বৈধ হলে তাহসিনা রুশদী লুনা নির্বাচন করবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।
বিএনপি সূত্র জানায়, মা ও ছেলে প্রার্থী হলেও শেষপর্যন্ত তারা দুজনই নির্বাচন করবেন না। মূলত বিকল্প হিসেবে তারা উভয়েই মনোনয়নপত্র জমা দেন। যদি কোনো কারণে কারো মনোনয়নপত্র অবৈধ হয়ে যায়, তাহলে বিকল্প হিসেবে যেন তাদের একজন প্রার্থী থাকেন, সেই লক্ষ্যে এটি করেছেন তারা।
সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে তারা পৃথকভাবে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মো. সারওয়ার আলমের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
জানা যায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির টিকিটে লুনা প্রার্থী হলেও আইনী জটিলতায় তার মনোনয়ন বাতিল হয়ে যায়। আদালতে আপিল করেও তিনি ফিরতে পারেননি। উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার প্রার্থিতা স্থগিত হওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি। পরবর্তীতে এই আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী করা হয় গণফোরামের মোকাব্বির খানকে এবং তিনি নির্বাচিত হন।
এবার যাতে সে রকম বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে না হয় সে জন্য মা-ছেলে একই আসনে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মায়ের মনোনয়নপত্র বৈধ হলে ছেলে আবরার ইলিয়াস তার মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেবেন।
সূত্র জানায়, ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগে সিলেট-২ আসনের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির তৎকালীন প্রার্থী এ এম ইয়াহহিয়া চৌধুরী এহিয়ার করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লুনার মনোনয়নপত্র স্থগিতের আদেশ দিয়েছিলেন উচ্চ আদালত। রিট আবেদনে ইয়াহহিয়া চৌধুরী অভিযোগ করেছিলেন, 'আরপিও অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার তিন বছর পর সংসদ সদস্যপদে প্রার্থী হওয়ার বিধান রয়েছে। তাহসীনা রুশদীর লুনা ছয় মাস আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার পদ থেকে অব্যাহতি নেন।'
প্রসঙ্গত, তাহসীনা রুশদীর লুনার স্বামী ও আবরার ইলিয়াসের বাবা এম. ইলিয়াস আলী ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। ২০১০ সালে তিনি বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানী থেকে মধ্যরাতে ব্যক্তিগত গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন তিনি। আজ অবধি তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি




