বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান একদিকে যেমন তিনি দলীয় প্রধান। অন্যদিকে বিবহা সূত্র ধরে সিলেটের মেয়ের জামাই। তিনি নিজেও সিলেটকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সিলেটের তরুণরা তাকে ‘দুলাভাই’ আর মুরব্বীরা ‘জামাই’ হিসেবে সম্বোধন করছেন। এবার ২২ বসন্তের পর সিলেট আসছেন তিনি। তার আগমনকে গিরে পুরো সিলেট জুড়ে চলছে উৎসবের আমেজ। দলীয় প্রধানের দৃষ্টি কাড়ার জন্য আলীয়া মাদ্রাসা মাঠসহ নগরীজুড়ে লাগানো হয়েছে ব্যানার আর ফ্যাস্টুন। এর আগে যখন সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে এসেছিলেন তখন তিনি ছিলেন দলের যুগ্ম মহাসচিব।
সেই সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দলের প্রধান হিসেবে হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচার শুরু করতেন। মায়ের পথ ধরে বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাতে একইভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার কাজ শুরু করতে যাচ্ছেন তারেক রহমান।
দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে চব্বিশের ৫ অগাস্ট পরবর্তী সময়ে ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন। সেদিন সিলেট হয়ে ঢাকায় আসলেও দেখা হয়নি সিলেটবাসীর সঙ্গে। বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের জড়ো না হতে বলেছিল দল। অবশেষে সিলেটবাসীর সঙ্গে তারেক রহমানের দেখা হচ্ছে; মাঝখানে কেটে গেছে ২২টি বছর।
জানা যায়, বুধবার রাতে ৮টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে সিলেট জেলায় পৌঁছাবেন। গভীর রাতে হযরত শাহজালাল (র.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং আগামীকাল সকালে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে নির্বাচনী সমাবেশে যোগদান করবেন। এরপর তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে শ্বশুরবাড়ি যাবেন। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে অরাজনৈতিক তরুণের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পরে বেলা ১১টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচার শুরু হবে। এসময় তিনি সিলেট বিভাগারে বিএনপির প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর এবং হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দুটি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজনো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আলীয়া মাদ্রাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড-ব্যানার-ফেস্টুনে। মাদ্রাসা মাঠে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেটে থেকেই নির্বাচনি প্রচারা শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন।
সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দল। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়; তবু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে এটি।
জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিপুল জনসমাগম সামাল দিতে সবধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দলীয় ইউনিটগুলোকে সর্বোচ্চ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মাঠে নামানো হয়েছে। প্রায় তিন লাখ মানুষের সমাগমের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সমাবেশ শুরু হবে। বিভাগের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নেতাকর্মীরা আগের রাতেই মাঠে অবস্থান নেবেন। নির্বাচনি আচরণবিধি মেনেই জনসভার মঞ্চ প্রস্তুত করা হচ্ছে। জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে এবং এটি দেশের রাজনীতিতে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জনসভা ঘিরে সব ধরণের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি নিয়ে আগেই রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সেই সাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি




