সিলেটের জকিগঞ্জের একটি হাওরে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় লন্ডন প্রবাসী বুরহান উদ্দিন শফিকে। হত্যার ঘটনায় নিহতের জকিগঞ্জ থানায় মামলা হলেও তদন্তে কোনো অগ্রগতি নেই। ঘটনার ১৬ দিন পেরিয়ে গেলেও জড়িতদের ধরতে পারছে না পুলিশ। ক্লু লেস এই হত্যার পেছনে মূল রহস্য কি সেটা এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে? শফিকে শুধু হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি, ঘাতকরা তার মরদেহের আলামত নষ্ট করার জন্য আগুনে পুড়িয়েও দেয়। শফিকে হারিয়ে অনেকটা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা।


তবে পুলিশ বলছে, হত্যা মামলা নিয়ে পুলিশের টিম কাজ করে যাচ্ছে। একই সাথে শফির সাথে যে যুবককে সিসি ক্যামেরায় দেখা গেছে তাকেও শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে পুলিশ তাকে ধরতে পারছে না।  নিহত বুরহান উদ্দিন শফি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর শহরের হবিবপুর আশিঘর গ্রামের সমছু মিয়ার ছেলে।



নিহতের ভাই সুলেমান আহমদ জানান, ভাইকে পরিকল্পিতভাবে একটি চক্র হত্যা করেছে। তবে কারা হত্যা করেছে কিজন্য করেছে তা আমাদের কাছে এখনও অজানা। ঘটনার অনেকদিন হয়ে গেলেও আসামী শনাক্ত কিংবা গ্রেফতার না হওয়ায় আমরা অনেকটাই মর্মাহত হয়ে পড়েছি। আমার ভাইকে সুপরিকল্পিত ও নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। একই সাথে হত্যার আলামত নষ্ট করতে মরদেহ পুড়িয়ে দেয়া হয়।


সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর ফরহাদ চৌধুরী শামীম বলেন, বুরহান উদ্দিন শফি একজন সুপরিচিত মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন থেকে প্রবাসী। কিন্তু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে খুনীরা। এই ঘটনায় কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যা খুবই উদ্বেগজনক।


এদিকে, যেদিন শফি নিখোঁজ হন ওইদিন রাতে তিনি মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। মাথায় ছিলো তার হেলমেট। শফি নিজেই মোটরসাইকেল চালালেও পেছনে বসা ছিলেন এক যুবক। যে যুবককে শফির পরিবার আগে কখন দেখেননি এমনকি তারা চিনেনও না। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে এ দৃশ্যটি ধরা পড়ার পর নতুন করে মোড় নেয়।


জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান,  হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পিত। পুলিশ অনেক দূর এগিয়ে তদন্তে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। নিখোঁজ হওয়ার দিন শফির সাথে মোটরসাইকেলে এক যুবককের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওই যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে পারছে না। তবে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে। মাঠে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করে যাচ্ছে।


জানা যায়,শফি স্বপরিবারে প্রায় ৩০ বছর থেকে লন্ডনে বসবাস করতেন। নিখোঁজের  ৪ দিন পর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জকিগঞ্জের সুলতানপুর ইউনিয়নের কোনারবন্দ হাওর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহটি আগুনে পোড়ানো ও গলায় দড়ি প্যাঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর হাওরে নিয়ে মরদেহে আগুন দেয়া হয়। সেই সাথে মরদেহের পাশেই পাওয়া যায় লবণের একটি প্যাকেট। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও মরদেহ উদ্ধারের পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি টিম মরদেহের পরিচয় প্রযুক্তির সহায়তায় শনাক্ত করে।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২৭ জানুয়ারি লন্ডন থেকে দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন শফি। গত ২৮ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরে সিলেট নগরীর আম্বরখানা এলাকার একটি বাসায় ওঠেন। ৩০ জানুয়ারি কুলাউড়া যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর তিনি নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি সিলেটের এয়ারপোর্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বোন আসমা জাহান।

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ পিটি/ এসডি-২২