সংগৃহিত
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং পাল্টাপাল্টি হামলায় গভীর সংকটে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
ড্রোন হামলায় ইতোমধ্যে সিলেটের মৌলভীবাজারের বড়লেখার সালেহ আহমদ নিহত হয়েছেন। তাকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
শুধু সালেহ নয় ভাগ্য বদলাতে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বিপাকে পড়েছেন সিলেটের কয়েকহাজার প্রবাসী। জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন তারা।
সিলেটে পরিবারের কাছে ফিরতে চাইলেও পারছেন না তারা। তাদের চিন্তায় পরিবারের সবাই কাটাচ্ছেন নির্ঘুম রাত। সেই সাথে প্রবাসে থাকা স্বজনদের জন্য বাড়ছে উদ্বেগ আর উৎকন্ঠা।
অন্যদিকে, ইরানে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় প্রবাসীদের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণ আর বোমা হামলার খবরের মধ্যে স্বজনদের ফোন বন্ধ পেয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারগুলো।
জানা যায়, উপসাগরীয় যুদ্ধ স্মরণে আছে সিলেটের মানুষের। বর্তমান প্রযুক্তির মতো দুনিয়া এত কাছাকাছি ছিল না। তবে যুদ্ধের যতটুকু খবর মিলেছিল তাতেই সিলেট জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। তখনো সিলেটের লাখো শ্রমিক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া দেশগুলোতে শ্রমিক হিসেবে কাজে ছিল। ওই যুদ্ধের রণাঙ্গনে আটকে থাকা অনেক শ্রমিকের মুখে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতির লোমহর্ষক কাহিনী শুনে আঁতকে উঠেন সিলেটের মানুষ।
সেই থেকে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার আতঙ্কের নাম। সময় পাল্টেছে। দুনিয়া এসেছে হাতের মুঠোয়। নেট দুনিয়ার বদৌলতে কোথায় কখন কী হচ্ছে সবই দেখছে মানুষ। ফের অস্থির মধ্যপ্রাচ্য।
কোনো দেশই স্বস্তিতে নেই। ইরানের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশ ইসরাইল। মিসাইল আছড়ে পড়ছে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে। টার্গেট মার্কিনি ঘাঁটি। ইরানি আক্রমণে তছনছ হচ্ছে এসব ঘাঁটিগুলো। বাহরাইনের অবস্থা ভয়াবহ। সেখানে মার্কিন স্থল ও জল ঘাঁটিতে মুহুর্মুহু মিসাইল হামলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতময় পরিস্থিতিতে ভিসা জটিলতায় পড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহায়তায় সরকার বিশেষ সেল চালু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক প্রবাসী বাংলাদেশি দেশে এসে আটকে পড়েছেন, অথচ তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে। এ সমস্যা সমাধানে একটি বিশেষ সেল খোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা দূতাবাসগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের ভিসা সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করব। আশা করি, বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে।
কামাল বাজারের বাসিন্দা কাতার প্রবাসী হুমায়ুন কবীর মুঠোফোনে জানান, প্রতিদিনই বোমার শব্দ শুনতে পাই। জীবন আর মৃত্যুর মধ্যখানে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। দেশের স্বজনরাও আমাদের নিয়ে খুবই আতঙ্কে। তারা দেশে ফিরে যাওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন। কিন্তু এখন কোনভাবে সম্ভব নয় দেশে ফেরা। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে।
গোয়ালাবাজারের বাসিন্দা বাহরাইন প্রবাসী আতিকুর রব জানান, প্রায় ৩০ বছর হয়ে যাচ্ছে প্রবাসে আছি। পরিবারের মুখে হাসি ফুটিয়ে রাখতেই প্রবাসে আসা। এই ৩০ বছরের মধ্যে ৪ বার দেশে গিয়েছিলাম ছুটিতে। এমনিতেই বাহরাইনের অথনৈতিক অবস্থা এতোটা ভালো নয়, তারপর যুদ্ধের কারণে একটা কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছি। দেশেও টাকা পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। অথচ সামনে ঈদে আসছে। সব মিলিয়ে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে আছে মানুষ। সব কিছু স্থবির। জীবন বাঁচানোই এখন দায় বলে মনে করা হচ্ছে।
অপরদিকে, দুবাইয়ে এরই মধ্যে ড্রোন হামলায় মৌলভীবাজারের বড়লেখার গাজিরটেক এলাকার সালেহ আহমদ নামের এক শ্রমিক মারা গেছে। তিনি পানির ট্যাংকির ট্রাক চালাতেন। আরও কয়েকজন শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে এমন পরিস্থিতির কারণে সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় বাংলাদেশের শ্রমিকরা। এর মধ্যে বেশির ভাগই সিলেটের শ্রমিক। তাদের ঘিরে উৎকণ্ঠার অন্ত নেই সিলেটে। নেট দুনিয়ার বদৌলতে যখন তখন খবর নেয়া যাচ্ছে প্রবাসীদের। সরাসরি কথা বলা যাচ্ছে। এতে করে অস্বস্তি কিছুটা কাটলেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা কমছে না।
গোলাপগগঞ্জের হেতিমগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা জুবেল আহমদ। পরিবারের সাথে ঈদের ছুটি কাটানোর জন্য ৩ মাসের ছুটি জমিয়ে রেখেছিলেন। রমজানের শেষ দিকে বাড়িতে আসবেন। সব প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছিলেন আগেই। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ঈদের ছুটিতে আসতে পারছেন না তিনি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/পিটি/ইকে




