ছবি: ফাইল ছবি।

সিলেট নগরীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ১৬নং ওয়ার্ডের হাওয়াপাড়া মিশন গলি এলাকায় তীব্র পানি সঙ্কটে পড়েছেন প্রায় শতাধিক পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই কৃত্রিম ও অমানবিক সঙ্কটের কারণে ওই এলাকার বাসা-বাড়িগুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে। পানির তীব্র অভাব এতটাই প্রকট রূপ ধারণ করেছে যে, গৃহিণীরা দৈনন্দিন রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির মৌলিক কাজগুলো পর্যন্ত করতে পারছেন না।

 

সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, দিনের পর দিন এই চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত করলেও সিলেট সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) কর্তৃপক্ষের কোনো রকম ভ্রূক্ষেপ বা কার্যকর উদ্যোগ নেই বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বাসিন্দারা।

 

পানির অভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে হাহাকার চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সুপেয় ও নিত্যব্যবহার্য পানির অভাবে তারা চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এলাকার অনেক পরিবারকে দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি কিনে বা অন্য এলাকা থেকে বোতলজাত করে সংগ্রহ করতে হচ্ছে। পানির অভাবে নিয়মিত গোসল, কাপড় ধোয়া এবং টয়লেট ব্যবহারের মতো মৌলিক চাহিদাগুলোও মিটাতে পারছেন না অনেকে। রান্নাবান্না বন্ধ থাকায় অনেক পরিবারকে হোটেল থেকে খাবার কিনে এনে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে, যা মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

উল্লেখ্য, নয়াসড়ক মেইন রাস্তা থেকে হাওয়াপাড়া মেইন রাস্তা পর্যন্ত মিশন গলির দু’পাশের শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সিসিকের পানি সঙ্কটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন।

 

এলাকাবাসীর দাবি, এই তীব্র পানি সঙ্কটের বিষয়টি একদিন বা দুইদিনের নয়, এটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। সমস্যাটি সমাধানের জন্য ভুক্তভোগী পরিবারগুলো একাধিকবার স্থানীয় সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট পানি শাখার কর্মকর্তাদের মৌখিকভাবে অবহিত করেছেন। কিন্তু বারবার ধরণা দেওয়ার পরও সিসিক কর্তৃপক্ষ রহস্যজনকভাবে নীরব ভূমিকা পালন করছে। এখন পর্যন্ত পানির লাইন মেরামত বা বিকল্প উপায়ে পানি সরবরাহের কোনো রকম উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

 

হাওয়াপাড়া মিশন গলির বাসিন্দারা সিসিকের এই উদাসীনতায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, আমরা নিয়মিত সিটি কর্পোরেশনের ট্যাক্স পরিশোধ করছি, অথচ বছরের পর বছর মৌলিক নাগরিক সুবিধা 'পানি' থেকে আমাদের বঞ্চিত রাখা হচ্ছে। পানি না পেলে আমাদের বেঁচে থাকাই অসম্ভব।

 

ভুক্তভোগীরা অতিবিলম্বে এই তীব্র পানি সঙ্কটের স্থায়ী সমাধান করার জন্য সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যে যদি এলাকায় সুপেয় পানির সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হয়, তবে তারা কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন।

 

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া