ছবি: সিলেট ভিউ।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের বিলেরপার গ্রামে সংস্কারের অভাবে রোগী, ছাত্র-ছাত্রীসহ জনচলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা হয়ে পড়েছে। যা দীর্ঘ ৫০ বছরেও কারও নজরে পড়েনি। জনগুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে না পেরে চিকিৎসা নিতে রোগী, প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ এ গ্রামের ২শ’ পরিবারের প্রায় হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শমশেরনগর টু পীরেরবাজর প্রায় ৭ কিলোমিটার রাস্তার মধ্য মোড় থেকে বাম দিক দিয়ে রাস্তাটি চাতলাপুর পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার রাস্তার একেবারেই বেহাল দশা। এতে চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে এলাকার জনসাধারণ। রাস্তাটি দিয়ে শরিফপুর, শমশেরনগর, চাতলা সীমান্তে যাওয়ার এই এলাকার মানুষের একমাত্র রাস্তা। এ রাস্তাটি হাজীপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের বিলেরপার গুচ্ছগ্রাম এলাকায় অবস্থিত।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটি বেশ কয়েক বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুছের বাড়ী হতে চাতলাপুর চা-বাগান সীমান্ত চান মিয়ার বাড়ী পর্যন্ত কিছু মাটি দিয়ে সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলের এমপি এই এলাকার ভোটে নির্বাচিত হলেও এই ২ কিলোমিটার রাস্তা এখনও কাচা রয়েগেছে। বিটিশ আমলের করা পাথরের সলিং রাস্তার মাঝে মাঝে প্রায় উঠে গিয়ে খানাখন্দসহ বড় বড় গর্তে সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্কুলে পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীসহ চিকিৎসা নিতে রোগীদের যাতায়াতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি দিলেই এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করা একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়ে।
বিলেরপার গ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুছ জানান, আমার বাবা একজন সিরিয়াস রোগী। প্রায় সময় চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার যেতে হয়। রাস্তার এই অবস্থা দেখে অটোরিকশা চালক আমাদের নিয়ে যেতে চায় না। আর দুয়েকজন চালক যেতে চাইলে তাদের দিতে হয় দ্বিগুণ ভাড়া।
সিএনজি চালক জসিম উদ্দিন জানান, এলাকার রোগীদের এই রাস্তা দিয়ে নিতে যেতে পারি না। রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। আমাদের সিএনজি গাড়ীও অনেক ক্ষতি হয়। তাই বাধ্য হয়ে ওইসব এলাকার যাত্রীদের নিয়ে জেলা ও উপজেলায় নিতে অনেক সময় লাগে। এজন্য অনেক রুগিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই ররাস্তায় মৃত্যু হয়। রাস্তাটি মেরামত হলে তাড়াতাড়ি যাত্রী ও রুগিদের হাসপাতালসহ বাড়িতে পৌঁছে দিতে পারি।
হাজীপুর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.গোলজার আহমদ বলেন, এই রাস্তাটি ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দে দিয়ে একবার কিছু মাটি উপরে দেওয়া হয়েছেলি। এখন জেলা পরিষদের কিংবা এমপির বরাদ্দে হলে কাজটা সম্পুর্ণ করা যেতে পারে। এ রাস্তাটি এমপি কর্তৃক পাকাকরণ হলে এলাকার দুংখ দুর্দশা কমবে। এর আগে রাস্তাটি সংস্কার ও পাকা করনের জন্য এলাকার লোকজন জেলা পরিষদ ও এমপির বরাবরে আবেদন করছেন। কিন্তু এর পর কোন বরাদ্ধ আসেনি এজন্য সংস্কার হয়নি। রাস্তাটি বিলেরপার এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই রাস্তা দিয়ে শত শত ছাত্রছাত্রী হাইস্কুল, প্রাইমারির স্কুলে ও হাজারও মানুষের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা তাই রাস্তাটি সংস্কার হওয়া খুবই জরুরি।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ জয়নাল/ এহিয়া



