নাঙ্গলকোটে খালার বাড়ি থেকে ফেনীর বাসায় ফেরার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক স্কুলছাত্রী। সোমবার (১৫ জুন) রাতে উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের তেতৈয়া গ্রামের জাফরের টিনশেড বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।


জরুরিসেবা ৯৯৯-এ ভুক্তভোগীর মায়ের ফোন পেয়ে থানা পুলিশ বুধবার (১৭ জুন) বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ২ জনকে আটক করে।

আটকরা হলেন- উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের অষ্টগ্রাম মোল্লা বাড়ির জয়নাল আহম্মদের ছেলে সিএনজিচালক রিয়াজ মোল্লা (২৬) ও একই গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে ফয়েজ আহমেদ (২৬)। এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর মা বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।
 

জানা যায়, সোমবার বিকেলে ভিকটিম স্কুলছাত্রী উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের শুভপুর গ্রামে তার খালার বাড়ি থেকে ফেনীর বাসার উদ্দেশে সিএনজিচালিত অটোরিকশা করে রওনা দেন। একপর্যায়ে একই ইউনিয়নের বোড়রা গ্রামে পৌঁছালে চালক তার অটোরিকশা নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা বলে স্কুলছাত্রীকে অন্য একটি (রিয়াজ মোল্লার) সিএনজিতে উঠিয়ে দেয়। রিয়াজ মোল্লা অটোরিকশা চালিয়ে জাকিরের মোড় নামক স্থানে গিয়ে তার বন্ধু ফয়েজ আহমেদকে সিএনজিতে ওঠায়।
 

আরও জানা যায়, অভিযুক্তরা স্কুলছাত্রীকে ফেনীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে চৌদ্দগ্রামের পদুয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘোরায়। পরে একইদিন রাত ৮টায় রিয়াজ ও ফয়েজ স্কুলশিক্ষার্থীকে তেতৈয়া গ্রামের জাফরের টিনশেড বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে ফয়েজ, রিয়াজ মোল্লা এবং তাদের অপর সহযোগী আকরাম তিনজন রাতভর ধর্ষণ করে ওই শিক্ষার্থীকে।
 

পরদিন মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে এলাকাবাসী খবর পেয়ে ভুক্তভোগীর জবানবন্দির ভিত্তিতে ফেনীর বাসায় পাঠিয়ে দেয়। বাসায় ফিরে ঘটনাটি মাকে জানায় ভুক্তভোগী। ঘটনাস্থলে এসে ৯৯৯ - এ ফোন দেন ভুক্তভোগীর মা। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান চালিয়ে মামলার আসামি রিয়াজ মোল্লা ও ফয়েজ আহম্মদকে আটক করে।
 

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ভিকটিম থানায় ধর্ষণ মামলা করেছে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। বৃহস্পতিবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিকটিমকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

 


সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১২