৭৩ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল গোলশূন্য। এরপর যেন বদলে যায় পুরো দৃশ্যপট। শেষ ২৩ মিনিটে দেখা যায় পাঁচ গোলের রোমাঞ্চ, লাল কার্ড, নাটকীয়তা আর একতরফা আধিপত্য। দশজনের বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে শেষ দিকে বিধ্বস্ত করে ৪-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে সুইজারল্যান্ড।

 

 


লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত সুইজারল্যান্ড ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনার ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য অবস্থায় শেষ হয়। বলের দখলে সুইসরা অনেকটাই এগিয়ে থাকলেও পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি।

 

 


এনদোয়ে এবং ফ্রয়েলার দুজনেই সাইড-নেটিংয়ে বল জড়ালেও বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিলজকে খুব বেশি পরীক্ষা দিতে হয়নি।

 

 


অন্যদিকে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা শুরুতে ধীরগতির ফুটবল খেললেও তিনটি প্রচেষ্টা থেকে গোল আদায়ের চেষ্টা করেছে। তবে প্রথমার্ধে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি।

 

 


দ্বিতীয়ার্ধেই জমে ওঠে মূল লড়াই। ৫৬ মিনিটে সুইজারল্যান্ড গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। এনদোয়ের দুর্দান্ত দৌড় থেকে কর্নার আদায় করে সুইসরা। এবিশারের সেট-পিস থেকে বল উড়িয়ে দিলে মুহারেমোভিচ হেড করে বিপদমুক্ত করার চেষ্টা করেন।

 

 

যদিও বসনিয়া-হার্জেগোভিনা পুরোপুরি বল ক্লিয়ার করতে পারেনি। বলটি আবার সুইজারল্যান্ডের দখলে গেলে জাকা বক্সে আরেকটি ক্রস তুলে দেন। সেই ক্রসে এনদোয়ে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিকে শট নেন, কিন্তু বসনিয়ার গোলরক্ষক ভাসিলজও ছিলেন সমান তৎপর। ক্ষিপ্রতায় বলটি আঙুলের স্পর্শে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি।

 

 


৬২ মিনিটে আবারও ভাসিলজের দুর্দান্ত নৈপুণ্য। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এম্বোলোর গোলমুখী হেডার অসাধারণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন তিনি।

 

 

কিন্তু জোহান মানজাম্বিকে আর থামানো যায়নি। ৭৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা দুই খেলোয়াড়ের দারুণ সমন্বয়ে ম্যাচের জট খুলে সুইজারল্যান্ড। ভার্গাসের ক্রস বসনিয়ার ডিফেন্ডাররা পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে না পারলে বল পেয়ে যান মানজাম্বি। কাছ থেকে প্রথম স্পর্শেই দুর্দান্ত ভলিতে বল জালে পাঠিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন তিনি।

 

 


৮০ মিনিটে আরও বড় বিপদে পড়ে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা। এম্বোলোর গতির সঙ্গে পেরে উঠতে না পেরে মুহারেমোভিচ তাকে ফাউল করেন। গোলের পথে থাকা এম্বোলোর সামনে তখন শুধু গোলরক্ষক ভাসিলজই ছিলেন এবং মুহারেমোভিচ ছিলেন শেষ ডিফেন্ডার। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠের বাইরে পাঠান রেফারি।

 

 


দশজনের দলে পরিণত হওয়ার পর সুযোগ নিতে দেরি করেনি সুইজারল্যান্ড। ৮৪ মিনিটে মানজাম্বির তৈরি আক্রমণ থেকে এম্বোলো বল বাড়িয়ে দেন ভার্গাসের কাছে। ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে বল জালের নিচের ডান কোণে পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন ভার্গাস।

 

 

মাত্র ছয় মিনিট পরই সুইসরা আরও এগিয়ে যায়। অধিনায়ক জাকার চমৎকার পাস থেকে ভার্গাস বল কাটব্যাক করে দেন মানজাম্বির কাছে। তিনি নিখুঁত সাইড-ফুট ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের তৃতীয় গোলটি করেন (৩-০)।

 

 


তবে বসনিয়া-হার্জেগোভিনা হাল ছাড়েনি। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে বদলি হিসেবে নামার পরপরই মাহমিচ দুর্দান্ত এক ভলিতে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান কমান। তার শটটি গোলরক্ষক কোবেলের নাগালের বাইরে দিয়ে সরাসরি জালে ঢুকে যায় (৩-১)।

 

 


শেষ নাটকীয়তা আসে যোগ করা সময়ের সপ্তম মিনিটে। বক্সের ভেতরে আলগা বল দখলের চেষ্টার সময় সোকে ফেলে দেন মেমিচ। সঙ্গে সঙ্গেই পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পটকিক থেকে গোল করে ম্যাচে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন গ্রানিথ জাকা।

 

 

শেষ পর্যন্ত শেষ ২৩ মিনিটের পাঁচ গোলের রোমাঞ্চে বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইজারল্যান্ড।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ ডেস্ক