উপজেলার মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে।


মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর।

 

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সকালে বিদ্যালয়ের নলকূপের পানি পান করার পর একে একে কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে আরও শিক্ষার্থীর মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা ও শারীরিক অস্বস্তির লক্ষণ দেখা দিলে তাদের দ্রুত নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষিকাজে ব্যবহৃত তরল কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ মিশিয়ে দেয়। বিষয়টি টের পাওয়ার আগেই শিক্ষার্থীরা সেই পানি পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে।
 

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। কয়েকজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সকালে শিক্ষার্থীরা টিউবওয়েলের পানি পান করার পর অসুস্থ হয়ে পড়ে। আমরা দ্রুত তাদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছি। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ও সার্বিক পরিস্থিতি সামাল দিতেই ব্যস্ত আছি।’
 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, বিরতির সময় ঝালমুড়ি খাওয়ার পর কয়েকজন সহপাঠী বিদ্যালয়ের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করে। এরপরই তারা বমি করতে শুরু করে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে। তবে সবাই ঝালমুড়ি খায়নি, অনেকেই শুধু পানি পান করার পর অসুস্থ হয়েছে।

মাহমুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল বলেন, ‘বিদ্যালয়ের নলকূপে বিষ বা কীটনাশক মেশানোর কারণেই শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতা কি না, তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন।’

নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাদীর আহামেদ জানান, ‘নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে মোড়ানো সাদা পেস্টজাতীয় একটি পদার্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সেটি পানির সঙ্গে মিশে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
 

নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এরফান উদ্দিন জানান, নলকূপের পানির নমুনা পরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষার ফল পাওয়ার পর ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাগরপুর থানার ওসি মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন অনেকটা সুস্থ রয়েছে।’



সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-০৭