জোবায়ের হোসেন পারভেজ নামে এক যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার নিজকুঞ্জরা গ্রামের নুর আহাম্মদ মাস্টারবাড়ি এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত জোবায়ের হোসেন পারভেজ (৩২) ওই গ্রামের আবু তাহেরের ছেলে। তিনি ঘোপাল ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। অভিযুক্ত শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুন একই এলাকার সাদেক মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত ১টার দিকে জোবায়েরকে শেষবার দেখেছিলেন তার বাবা আবু তাহের। শনিবার ভোরে বাড়ির পাশে পুকুরপাড়ে তার গলা ও হাত বিচ্ছিন্ন মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেন।
নিহতের ছোট ভাই সাব্বির হোসেনের অভিযোগ, একই গ্রামের সাদেক মিয়ার ছেলে শাহাদাত হোসেন ও মামুনুর রশিদ মামুনের সঙ্গে জোবায়েরের দোকানসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া ও হাতাহাতি হয়। ওই বিরোধের জেরেই জোবায়েরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জোবায়ের পারভেজের বিরুদ্ধে ডাকাতি, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, মাদক, চোরাচালান ও চুরিসহ ১৮টিরও অধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও শাহাদাত ও মামুনের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জোবায়ের পারভেজ এবং শাহাদাত ও মামুন একই গ্রুপের লোক ছিল। সম্প্রতি এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধের জেরে শুক্রবার দিবাগত রাত ১১টায় জোবায়ের পারভেজ মামুনকে পুকুরপাড়ে টর্চ লাইট দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাদাত ও মামুন রাত সোয়া ২টায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত করে পারভেজকে হত্যা করে। পারভেজ, শাহাদাত ও মামুন চুরি, ডাকাতি ও মাদককারবারের সঙ্গে জড়িত ছিল।
ছাগলনাইয়া থানার ওসি আবু তাহের বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া প্রক্রিয়াধীন।
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ডেস্ক/এসডি-১৪



