ছবি: সংগৃহিত

ছিচকে চোর থেকে দাগী আসামি, সাধারণ গাঁজাসেবী থেকে সব ধরনের বড় বড় নেশাখোর, খুঁচরা গাঁজা ব্যবসায়ী থেকে মাদকের সব বড় বড় ডিলার- কে যায়না সেখানে! এছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে আসা মামলার বড় বড় আসামিদেরও নিরাপদ আস্তানা সিলেটের এই নরককুণ্ডগুলো। এরমধ্যে সিলেট বিভাগের সবচেয়ে বড় নরকুণ্ডটির অবস্থান নগরীর বন্দরবাজারের কাষ্টঘর সুইপার কলোনি।


যুগযুগ ধরে সিলেট মহানগরীর প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে আছে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি, যেনো নগরীর চাকচিক্যের মধ্যে দাঁড়িয়ে থাকা এক নরককুণ্ড! হ্যাঁ, নরককুণ্ডই বটে। খুব ছোটো ছোটো ঘরে গাদাগাদি করে থাকা পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও তাদের পরিবার পরিজন, রান্নাবান্না খাওয়াদাওয়া, ব্যবসা বাণিজ্য সব ওই এক চিলতে ঘরেই।


 

সন্ধ্যা নামার পর থেকেই ধীরে ধীরে নেশাখোর, নেশার ব্যবসায়ী, বৃহত্তর সিলেটের সীমানা ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুলিশের তাড়া খাওয়া দাগি দাগি অপরাধীদের গন্তব্য এই কাষ্টঘর। রাত বাড়ার সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে ভীড়। লেখাপড়া ছেড়ে তখন বাচ্চা আর বৃদ্ধরা ঘরের বাইরে এলোমেলো ঘুরতে থাকে। মহিলা আর গৃহকর্তাদের ব্যস্ততা তখন মদ ইয়া আর গাঁজাসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য দিয়ে কাষ্টমারদের চাদিতা পূরণ। এভাবে চলে গভীর রাত পর্যন্ত। হয় কোটি কোটি টাকা লাখ টাকার বাণিজ্য। রাত আড়াইটা তিনটার দিকে আস্তে আস্তে ভাঙতে থাকে মাদকের উৎসব। নিজ নিজ ঠিকানায় ফিরতে থাকে সবাই।  সঙ্গে একালের দেবদাসেরাও।

কাষ্টঘরের বাইরেও দক্ষিণ সুরমার সুরমাপারের সুইপার কলোনি ছোটো। তবে এখানেও সমানতালে চলে এই বাণিজ্য। যদিও সম্প্রতি জেলা প্রশাসন এখানে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছিল। তবে  খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আবারও এই কলোনিতে মাদক ব্যবসা শুরু হয়েছে। আগের মতো না হলেও মোটামুটি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এছাড়াও সিলেট নগরীর আরও যেসব সুইপার কলোনি আছে সেগুলোর অবস্থাও এমনই।

সিলেট শহরতলীর চা বাগানগুলোতেও আছে এমন অসংখ্য নরককুণ্ড। চা শ্রমিকদের দায়িত্বে এসব আস্তানায় এরকই চলে রাতের মাদক উৎসব। মালনিছড়া, আলীবাহার, তারাপুর বাগানসহ অন্যান্য বাাগনেও এমন নরককুণ্ডের সংখ্যা কম নয়।

 

যুগ যুগ ধরে চলে আসা এই নরককুণ্ডগুলোর বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরিচ্ছন্নতার কাজের পাশাপাশি তাদের অন্যতম প্রধান আয়ের উৎস এই মাদক ব্যবসা। মাঝে পুলিশ অভিযান চালালেও তেমন কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

 

অবশ্য সম্প্রতি আাবরও শুরু হয়েছে অভিযান। শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে  কাষ্টঘর থেকে কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের পাশাপাশি প্রচুর মদ গাজা ও ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন সিলেটের ধর্মপ্রাণ মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, প্রকাশ্যে মাদকের এমন বাণিজ্য বা উৎসব অচিরেই বন্ধ করার।

 

এ ব্যাপারে প্রশাসনের চিন্তাভাবনা জানতে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার মো. মনজুর আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। শিঘ্রই সিলেটের সবগুলো মাদেকের আস্তানায় আরও বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে।

 

সিলেটভিউ২৪ডটকম/ইকে