ছবি: ফাইল ছবি।
সিলেটে একদিনের ব্যবধানে পৃথক তিনটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সড়ক দুর্ঘটনা, ফুটবল খেলা দেখা নিয়ে বিরোধ এবং পারিবারিক কলহকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড। এসব ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সবশেষ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট-জকিগঞ্জ সড়কের বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই এলাকার কাঠলিপুল সংলগ্ন স্থানে বিআরটিসির একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কানাইঘাট উপজেলার রাজাগঞ্জ ইউনিয়নের ফালজুর গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কালাই মিয়া (৫৫) ঘটনাস্থলেই নিহত হন। দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তারা বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঘটনার কারণ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, বুধবার (১ জুলাই) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লামারগ্রামে ফুটবল ম্যাচ দেখাকে কেন্দ্র করে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে চাচাতো ভাই আলম আহমদ (২৮) ও পারভেজ আহমদ (২৬)-এর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পারভেজ ছুরিকাঘাত করলে গুরুতর আহত আলমকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই মো. জসিম উদ্দিন হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার প্রায় দুই ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত পারভেজ আহমদকে গ্রেফতার করে এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করে। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।’
এর আগে একই দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়নের বড়বন্দ ৩য় খণ্ড গ্রামে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে জাহাঙ্গীর আলম (২৮) নিহত হন। পরিবারের অভিযোগ, ভায়রা ভাই শামীম উদ্দিন ও তার স্বজনরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে জাহাঙ্গীর আলমের মৃত্যু হয়। কানাইঘাট থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত শুরু করেছে।
কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশ কাজ করছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিলেট জেলা পুলিশের সূত্র জানিয়েছে, ‘পৃথক তিনটি ঘটনাই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যেসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, সেসব মামলার তদন্ত দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি হত্যাকাণ্ডে প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রমও চলছে।’
সিলেটভিউ২৪ডটকম/ এহিয়া




